মাসে ১২ হাজার বেতন, ৯ ঘণ্টার ডিউটি! কলেজে বাঁদর তাড়াতে ‘প্রফেসর’ নয়, চাকরি পেল হনুমান ‘গোলু’

উত্তরপ্রদেশের আলিগড় জেলার ডিএস ডিগ্রি কলেজে বাঁদরের উপদ্রব ঠেকাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘গোলু’ নামের একটি লঙ্গুর বা হনুমানকে পাহারাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডিউটি করা এই হনুমানটির জন্য মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতন বরাদ্দ করেছে কলেজ প্রশাসন।
অভিনব পাহারায় স্বস্তিতে শিক্ষার্থীরা
বিগত বেশ কিছু সময় ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাঁদরের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ ছিলেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ক্লাসে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো বা আক্রমণ করার মতো ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু গোলু আসার পর গত ছয় মাসে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। লঙ্গুরটি পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে পাহারা দেয় এবং তাকে দেখামাত্রই অন্য বাঁদরের দল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এখন কোনো ভয় ছাড়াই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারছেন।
জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রভাব
কলেজের প্রিন্সিপাল ড. মুকেশ ভরদ্বাজের মতে, প্রথাগত পদ্ধতিতে বাঁদর তাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না বলেই এই সৃজনশীল পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। গোলু এখন কলেজের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। নিরাপত্তার পাশাপাশি সে শিক্ষার্থীদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, অনেকেই গোলুর সাথে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হয়েছে, অন্যদিকে বাঁদরের কামড় বা আক্রমণের ঝুঁকিও প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের ডিএস ডিগ্রি কলেজে বাঁদর তাড়াতে হনুমান নিয়োগ।
- ‘গোলু’ নামের লঙ্গুরটি প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা ডিউটি করে এবং বেতন পায় ১২ হাজার টাকা।
- এই উদ্যোগের ফলে গত ছয় মাস ধরে ক্যাম্পাসে বাঁদরের উপদ্রব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে।
- প্রথাগত ব্যবস্থার বদলে এই সৃজনশীল সমাধান শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।