“নির্বাচন কমিশনের অফিসে তো বিজেপির পতাকা উড়ছে!”— বাংলা ও তামিলনাড়ু ভোট নিয়ে বিস্ফোরক সঞ্জয় রাউত

পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউত এই দুই রাজ্যের নির্বাচনকে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, বাংলার মাটিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি হাজার হাজার জওয়ান মোতায়েন করে এক ধরনের ‘গুন্ডামি’ প্রদর্শন করছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারের চেয়ে পুলিশের উপস্থিতি বেশি বলে তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
সঞ্জয় রাউত কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, গোটা কমিশন যেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছে এবং কমিশনের দপ্তরে তিনি দৃশ্যত বিজেপির পতাকা দেখতে পাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনে হারানো বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরে রাখার সবরকম চেষ্টা হলেও তা সফল হবে না বলে তিনি মনে করেন। রাউতের দাবি, বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা দিদির পাশেই আছেন।
মমতা ও স্ট্যালিনের প্রত্যাবর্তন নিয়ে দৃঢ়তা
বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের যাবতীয় প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিন এবং পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবেন বলে রাউত দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি বলেন যে, বাংলার খাদ্যাভ্যাস বা সংস্কৃতি নিয়ে অযথা চিন্তিত না হয়ে তাঁর উচিত আসামের পরিস্থিতি সামলানো। রাউতের মতে, সাধারণ মানুষ বাংলায় অত্যন্ত সুখী ও স্বাধীন রয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণে দুপুর পর্যন্ত ৬২.১৮ শতাংশ এবং তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ৫৬.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই উচ্চ হারে ভোটদান ও রাউতের মতো বিরোধী নেতাদের মন্তব্য এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক আবেগ ও কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের ইস্যুটি এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। রাউতের এই কড়া অবস্থান জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী জোটকে আরও সংহত করতে পারে।
এক ঝলকে
- নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ সঞ্জয় রাউতের।
- বাংলা ও তামিলনাড়ুতে যথাক্রমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম কে স্ট্যালিনের বড় জয়ের পূর্বাভাস।
- ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তাকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য।
- অমিত শাহকে বাংলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে নিজের রাজ্যের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ।