তাপপ্রবাহ ও খরার বিধ্বংসী জোড়া আঘাতের সতর্কতা!

জলবায়ু পরিবর্তনের চরম খেসারত দিতে হতে পারে বিশ্ববাসীকে। জার্মানি ও চিনের বিজ্ঞানীদের এক যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর পূর্বাভাস। তাঁদের দাবি, বর্তমান শতকের শেষভাগে অর্থাৎ ২০৯০-এর দশকে তাপপ্রবাহ এবং খরার সম্মিলিত আঘাত বর্তমানের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। ‘জিয়োফিজ়িক্যাল রিসার্চ লেটার্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণা অনুযায়ী, ২১০০ সাল নাগাদ বিশ্বের তাপমাত্রা গড়ে ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি এখনকার চেয়ে তিন গুণ বেশি সময় ধরে স্থায়ী হবে।
জনজীবন ও অর্থনীতিতে বিপর্যয়
বিজ্ঞানীদের মতে, এই চরম উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া একে অপরের প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিশ্বের প্রায় ২৬০ থেকে ৩০০ কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। একদিকে যেমন পানীয় জলের তীব্র হাহাকার তৈরি হবে, অন্যদিকে দাবানলের প্রকোপ ও কৃষিজাত ফসলের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণি এবং যাঁরা খোলা আকাশের নীচে কাজ করেন, তাঁদের জন্য এই পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। খাদ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
দরিদ্র দেশগুলোর ওপর অবিচার
গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাব সব অঞ্চলে সমান হবে না। মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চলের স্বল্প আয়ের ও দরিদ্র দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হবে। বিড়ম্বনার বিষয় হলো, বিশ্ব উষ্ণায়নে এই দেশগুলোর অবদান সবচেয়ে কম হওয়া সত্ত্বেও এদেরই চরম মূল্য চোকাতে হবে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা ও উন্নত প্রযুক্তির অভাব এবং বিকল্প জল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এই দেশগুলোর সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলবে। মূলত মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাসই এই আসন্ন সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এক ঝলকে
- ২০৯০-এর দশকের মধ্যে তাপপ্রবাহ ও খরার যৌথ প্রকোপ পাঁচ গুণ বাড়তে পারে।
- বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ বা প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ এই চরম আবহাওয়ার শিকার হবেন।
- দরিদ্র ও ক্রান্তীয় দেশগুলোতে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
- প্যারিস সমঝোতা কঠোরভাবে মানলে অন্তত ৯০ কোটি মানুষকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।