ইভিএম কি আগেভাগেই ফিট করা? শুভেন্দুর দাবির পাল্টায় মোদীকে নজিরবিহীন আক্রমণ মমতার

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। এবারের ভোটে বুথ দখল বা বাইক বাহিনীর দাপট বিশেষ দেখা না গেলেও, বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটদান আদতে কার বাক্সে পড়ল তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ ভোটের পর বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় পক্ষই জয়ের রেকর্ড ব্যবধান নিয়ে বড়সড় দাবি পেশ করেছে।

রাজনৈতিক মহলে আসন সংখ্যার লড়াই

ভোট মিটতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি কমপক্ষে ১২৫টিতে জয়ী হবে। এই দাবির বিপরীতে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ পাল্টা দাবি করেছেন, ১৩২ থেকে ১৩৫টি আসনে ঘাসফুল শিবিরই জয়ী হতে চলেছে। দুই দলের এই সংখ্যার লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই চৌরঙ্গীর জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জয়ের ব্যাপারে বিজেপি এত নিশ্চিত হচ্ছে কী করে?

মমতার ক্ষোভ ও জয়ের পাল্টা দাবি

প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায় ঘোষণার আগেই জয়ের কথা বলা কেবল ‘মহামূর্খামি’ নয়, বরং ইভিএম যন্ত্রে কারচুপির সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসনে জয়ের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তীক্ষ্ণ বাক্যবাণ আসলে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখা এবং ইভিএম নিয়ে আগাম সতর্কতা বজায় রাখার একটি কৌশল।

এক ঝলকে

  • প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোটগ্রহণ শেষে বিজেপি ১২৫টি এবং তৃণমূল ১৩৫টি আসনে জয়ের দাবি করেছে।
  • ইভিএম কারচুপির সরাসরি অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘মহামূর্খ’ বলে কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি ছাড়া এবারের নির্বাচন ছিল নজিরবিহীনভাবে শান্তিপূর্ণ, যেখানে ভোটদানের হারও ছিল বেশ সন্তোষজনক।
  • আগামী ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে এই বিপুল জনমত আসলে কার পক্ষে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *