“বাবাকে আমার মৃতদেহ ছুঁতে দেবেন না!” কানপুরে আদালত ভবনের ৫ তলা থেকে ঝাঁপ তরুণ আইনজীবীর

কানপুরে নিজের কর্মস্থলের পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন ২৩ বছর বয়সী তরুণ আইনজীবী প্রিয়াংশু শ্রীবাস্তব। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালত চত্বরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বেলা ২টো নাগাদ তিনি নতুন আদালত ভবনের পাঁচতলায় ওঠেন এবং সেখান থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। মাথায় গুরুতর আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখেছে যে, ঝাঁপ দেওয়ার আগে তিনি দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলছিলেন।
পারিবারিক নিষ্ঠুরতার চরম খতিয়ান
মৃত্যুর আগে প্রিয়াংশু হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে এবং দুই পাতার সুইসাইড নোটে নিজের বাবার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসহনীয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। তিনি লিখেছেন, মাত্র ৬ বছর বয়সে ফ্রিজ থেকে জুস খাওয়ার অপরাধে তাকে উলঙ্গ করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। বড় হওয়ার পর প্রতিনিয়ত সন্দেহ করা এবং প্রতিটি মুহূর্তের হিসেব চাওয়া তার জীবনকে বিষিয়ে তুলেছিল। এমনকি ভালো ফলাফল না করলে তাকে জনসমক্ষে অপমান করার হুমকিও দেওয়া হতো বলে নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেষ ইচ্ছায় বাবাকে ঘৃণা
প্রিয়াংশুর বাবা রাজেন্দ্র কুমার শ্রীবাস্তব নিজেও একজন পেশাদার আইনজীবী। বাবার অধীনেই প্রিয়াংশু কাজ শিখছিলেন, কিন্তু পর্দার আড়ালে মানসিক অবসাদ তাকে গ্রাস করেছিল। সুইসাইড নোটে তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন, “বাবা জিতে গেলেন, আমি হেরে গেলাম।” তার শেষ আকুতি ছিল, মৃত্যুর পর তার বাবা যেন তার মৃতদেহ স্পর্শ না করেন। এই ঘটনাটি অভিভাবকত্বের নামে সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত মানসিক চাপের ভয়াবহ পরিণতির দিকে আঙুল তুলছে।
এক ঝলকে
- কানপুর আদালত ভবনের পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে ২৩ বছর বয়সী আইনজীবী প্রিয়াংশু শ্রীবাস্তবের আত্মহত্যা।
- সুইসাইড নোটে নিজের আইনজীবী বাবার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের নির্মম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ।
- ছোটবেলা থেকে সহ্য করা অপমান ও ক্রমাগত সন্দেহের কারণে চরম হতাশায় ভুগছিলেন ওই তরুণ।
- মৃত্যুর পর নিজের দেহ যেন বাবা স্পর্শ না করেন, সেই মর্মস্পর্শী শেষ ইচ্ছা জানিয়ে গেছেন প্রিয়াংশু।