বিহার বিধানসভায় সম্রাট চৌধুরী ম্যাজিক! ভোটাভুটিতে হার মানলেন তেজস্বী, কুর্সি ধরে রাখল এনডিএ

বিহার বিধানসভায় নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রমাণ করলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। শুক্রবার বিধানসভায় পেশ করা আস্থা ভোটে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকার। ভোটাভুটির সময় বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন ভোটাভুটি দাবি না করায় ‘ধ্বনি ভোটের’ মাধ্যমেই সরকার অনায়াসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে। বর্তমানে ২৪৩ আসন বিশিষ্ট বিহার বিধানসভায় এনডিএ জোটের পক্ষে ২০১ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যা সরকারের স্থিতিশীলতাকে এক মজবুত ভিত প্রদান করেছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ
আস্থা ভোট চলাকালীন বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়। সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ‘নির্বাচিত’ বনাম ‘মনোনীত’ ইস্যুতে আক্রমণ করে বলেন যে, বিজেপি নীতিশ কুমারকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দিয়েছে। সম্রাট চৌধুরীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, তাঁর পাগড়ির দিকে যেন তিনি খেয়াল রাখেন, কারণ দলের ভেতরেই অনেকের নজর রয়েছে তাঁর পদের দিকে। পাল্টাপাল্টি জবাবে উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী স্পষ্ট করেন, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নীতিশ কুমারের নির্দেশনায় এবং এনডিএ-র নেতৃত্বেই বিহারের উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা
নীতিশ কুমারের কাছ থেকে সম্রাট চৌধুরীর হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরকে এনডিএ নেতারা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। বিজেপি, জেডিইউ, এইচএএম (HAM) এবং এলজেপি-র মতো শরিক দলগুলোর একাত্মতা প্রমাণ করেছে যে বিহারে বর্তমান জোট সরকার বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়ের ফলে ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এনডিএ শিবির মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে গেল। অন্যদিকে, বিরোধী দল ভোটাভুটি এড়িয়ে যাওয়ায় তাদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও রণকৌশলের অভাব জনসমক্ষে প্রকট হয়েছে।
এক ঝলকে
- বিহার বিধানসভায় ‘ধ্বনি ভোটে’ সম্রাট চৌধুরী সরকারের নিরঙ্কুশ জয়।
- ২৪৩ আসনের বিধানসভায় এনডিএ জোটের পক্ষে রয়েছে ২০১ জন বিধায়কের সমর্থন।
- তেজস্বী যাদবের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রত্যুত্তর দিল শাসক দল।
- নীতিশ কুমারের উত্তরসূরি হিসেবে সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে বিহারে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা।