জ্বলছে মণিপুর, গ্রামছাড়া শতাধিক পরিবার: তিন জনজাতির রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে মৃত্যুমিছিল!

জ্বলছে মণিপুর, গ্রামছাড়া শতাধিক পরিবার: তিন জনজাতির রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে মৃত্যুমিছিল!

মণিপুরে জাতিগত দাঙ্গার আগুন নেভার বদলে নতুন করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। মেইতি ও কুকি সম্প্রদায়ের সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি জড়িয়ে পড়ল নাগা জনগোষ্ঠীও। উখরুল জেলায় নাগাদের হামলায় তছনছ হয়ে গেছে একাধিক কুকি গ্রাম, যার জেরে এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে শতাধিক পরিবার ঘর ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

নয়া সংঘাতের কারণ ও উখরুলের পরিস্থিতি

উখরুল জেলার মুলাম, সংফেল ও সাংকাইয়ের মতো গ্রামগুলোতে নাগা জঙ্গি গোষ্ঠী টাংখুল নাগা লং (টিএনএল) হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে কুকি সম্প্রদায়। কুকিদের মতে, শুক্রবার ভোরে গ্রাম পাহারায় থাকা দুই স্বেচ্ছাসেবীকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে নাগাদের পাল্টা দাবি, জাতীয় সড়কে কুকি জঙ্গিদের হামলায় তাদের সম্প্রদায়ের মানুষ মারা যাওয়ায় এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী গ্রামে পৌঁছে পরিত্যক্ত এলাকা থেকে সেনার পোশাক পরা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাতের মাত্রা ক্রমে যুদ্ধের আকার ধারণ করছে।

প্রশাসনের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাব

মণিপুরের জনজাতি গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকা সম্পর্কে সম্যক ধারণা ছাড়াই অভিযান চালাচ্ছে, যা হিতে বিপরীত হচ্ছে। একদিকে মেইতি মহিলারা প্রশাসনের দমননীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন, অন্যদিকে কুকি ভিলেজ ভলান্টিয়ারদের গ্রেফতার করার ফলে কুকি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আগামী দিনগুলোতে এই ত্রিমুখী সংঘাত উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • মণিপুরে নাগা ও কুকি জনজাতির মধ্যে নতুন করে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
  • উখরুলের একাধিক গ্রামে হামলায় ৩ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক পরিবার বাস্তুচ্যুত।
  • মেইতি, কুকির পর নাগা জনগোষ্ঠী জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
  • প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণহীনতা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে স্থানীয়রা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *