“পাঞ্জাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা!” হরভজন-সহ ৩ সাংসদের দলত্যাগে জ্বলছে রাজ্য, বাড়ির সামনে ‘গদ্দার’ স্লোগান

আম আদমি পার্টির (আপ) তিনজন রাজ্যসভা সদস্য—হরভজন সিং, অশোক মিত্তল এবং রাজিন্দর গুপ্তের ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদানের ঘটনায় পাঞ্জাব জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই দলবদলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আপ কর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বাসভবন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হয়ে দলত্যাগীদের ‘পাঞ্জাবের গদ্দার’ হিসেবে অভিহিত করে স্লোগান দিচ্ছেন।
বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ও জনরোষ
সাংসদদের এই আকস্মিক দলবদলকে পাঞ্জাবের জনগণের রায়ের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভের মাত্রা এতটাই তীব্র যে, অশোক মিত্তলের মালিকানাধীন লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির দেওয়ালে এবং গেটে প্রতিবাদী স্লোগান লিখে দেওয়া হয়েছে। অনেক অভিভাবক এমনকি এই ঘটনার প্রতিবাদে তাদের সন্তানদের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না করানোর ঘোষণাও দিয়েছেন। আপ নেতৃত্ব মনে করছেন, পাঞ্জাবের উন্নয়নের রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিজেপি এই ধরনের ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছে।
বিজেপি ও আপের রাজনৈতিক লড়াই
জালেরন্ধরের প্রবীণ আপ নেতা পবন কুমার টিনু দাবি করেছেন, বিজেপি পাঞ্জাবে রাজনৈতিক জমি হারিয়ে এখন আপের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রলুব্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, যুব উইংয়ের নেতা পরমিন্দর গোল্ডির নেতৃত্বে রাজিন্দর গুপ্তের বাড়ির সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আপের দাবি, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে কংগ্রেস, বিজেপি ও আকালি দল তলে তলে জোটবদ্ধ হয়েছে, তবে ২০২৭ সালের নির্বাচনে পাঞ্জাবের মানুষ এই অপপ্রচারের যোগ্য জবাব দেবেন।
এক ঝলকে
- পাঞ্জাবের ৩ জন আপ সাংসদ সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেছেন।
- দলত্যাগী নেতাদের ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে তাদের বাড়ির সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ করছে আপ কর্মীরা।
- লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (LPU) সহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী স্লোগান ও বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
- আপ নেতৃত্বের দাবি, এই দলবদল পাঞ্জাবের জনগণের ম্যান্ডেটের অবমাননা এবং বিজেপির গভীর ষড়যন্ত্র।