মা-বোনদের টার্গেট করছে পাক সেনা! বালুচিস্তানে বাড়ছে রহস্যজনক নিখোঁজ সংবাদ, উত্তাল আন্তর্জাতিক মহল

মা-বোনদের টার্গেট করছে পাক সেনা! বালুচিস্তানে বাড়ছে রহস্যজনক নিখোঁজ সংবাদ, উত্তাল আন্তর্জাতিক মহল

বলুচিস্তানে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে নারী ও সাধারণ নাগরিকদের ‘জবরদস্তি গুম’ করার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, খুজদার ও কেচ জেলায় সাম্প্রতিক অভিযানে আরও দুই নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই অভিযান চলাকালে পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং কোনো আইনি পরোয়ানা ছাড়াই সামিনা ও গুল বানুক নামের দুই তরুণীকে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা অঞ্চলটিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও ভীতি সৃষ্টি করেছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিবারের ওপর মানসিক চাপ

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বলুচ নারীদের টার্গেট করা মূলত বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার একটি কৌশল। বলুচ যকজেহতি কমিটির (বিওয়াইসি) নেত্রী ডক্টর সাবিহা বলুচ অভিযোগ করেছেন, সঠিক আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মাঝরাতে বাড়িঘরে তল্লাশি চালিয়ে নারীদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই বন্দিদের কোনো আদালতে পেশ করা হয় না এবং পরিবারের সাথেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। এর ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের আইনি মর্যাদা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই অন্তত পাঁচজন বলুচ নারী নিখোঁজ হয়েছেন এবং গত কয়েক মাসে এই সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়েছে। এই ধরনের বলপ্রয়োগ ও গুমের ঘটনা বলুচিস্তানের সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা এবং ক্ষোভ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই চিত্র আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের মানবাধিকার রেকর্ডকে চরম প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে।

এক ঝলকে

  • বলুচিস্তানের খুজদার ও কেচ জেলা থেকে সামিনা ও গুল বানুক নামে দুই নারী নিখোঁজ।
  • চলতি এপ্রিল মাসে অন্তত ৫ জন এবং বিগত কয়েক মাসে প্রায় ১৫ জন নারী গুম হওয়ার অভিযোগ।
  • বিওয়াইসি নেত্রীর দাবি, পরিবারকে চাপে রাখতে নারীদের কৌশলে টার্গেট করছে নিরাপত্তা বাহিনী।
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে পেশ না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার পরিষদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *