“বিজেপি হলো বকাসুর, সব গিলে খাচ্ছে!” রাঘব চাড্ডাদের দলবদল নিয়ে বিস্ফোরক সঞ্জয় রাউত

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিতে (আপ) বড়সড় ধস নামিয়ে রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ যোগ দিলেন বিজেপিতে। শুক্রবার রাঘব চাড্ডা ও স্বাতী মালিওয়ালসহ সাতজন সাংসদ দল ত্যাগ করায় দিল্লিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সতীর্থদের এই আকস্মিক দলবদলে বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
বকাসুর তকমা ও রাজনৈতিক সংঘাত
এই দলবদলকে কেন্দ্র করে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। বিজেপিকে মহাভারতের ‘বকাসুর’ রাক্ষসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এই দলটি সবকিছু গিলে ফেলতে চায়। রাঘব চাড্ডাদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, যারা গতকাল পর্যন্ত বিজেপিকে দুর্নীতিবাজ বলতেন, আজ তারাই সেই ‘নরকে’ যোগ দিয়েছেন। রাউতের মতে, এই দলত্যাগীরা কোনো জননেতা নন, বরং এরা স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়া ও ‘পেজ-থ্রি’র মুখ।
আইনি লড়াইয়ের পথে আপ
এদিকে আম আদমি পার্টি এই দলবদলকে বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’-এর অংশ হিসেবে দাবি করেছে। আপ নেতা সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী এই বিভাজনের কোনো আইনি বৈধতা নেই। বিদ্রোহী সাত সাংসদকে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য তারা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে দ্রুত আবেদন করবেন। তবে দলত্যাগীরা অভিযোগ তুলেছেন, আপ বর্তমানে তার মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এই ঘটনার ফলে দিল্লির পাশাপাশি পাঞ্জাবের রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাঞ্জাব থেকে নির্বাচিত সাংসদদের এই দলবদলকে সেখানকার মানুষ সহজে মেনে নেবে না বলে দাবি করছে আপ নেতৃত্ব। বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যসভায় শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজেপির জন্য উচ্চকক্ষে বিল পাস করানো সহজ হবে, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোট বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হলো।
এক ঝলকে
- রাঘব চাড্ডা ও স্বাতী মালিওয়ালসহ আপ-এর ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
- দলত্যাগীদের ‘পেজ-থ্রি’ নেতা ও বিজেপিকে ‘বকাাসুর’ বলে কটাক্ষ করেছেন সঞ্জয় রাউত।
- দলত্যাগ বিরোধী আইনে সাত সাংসদকে পদচ্যুত করতে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হচ্ছে আপ।
- পাঞ্জাব ও দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণে এই ঘটনা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।