রাঘব-ভাজ্জিদের বাড়িতে পড়ল ‘গদ্দার’ কালি! বিজেপি-তে যোগ দিতেই পাঞ্জাব জুড়ে আপ কর্মীদের তুমুল বিক্ষোভ

রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে আম আদমি পার্টির (আপ) সাত রাজ্যসভা সাংসদ ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়ার পর পাঞ্জাব জুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবারের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শনিবার সকাল থেকেই পদত্যাগী সাংসদদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন ক্ষুব্ধ আপ কর্মীরা। বিক্ষোভকারীরা প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং, অশোক মিত্তল ও সন্দীপ পাঠকের বাড়ির দেওয়ালে এবং গেটে স্প্রে পেন্ট দিয়ে বড় বড় অক্ষরে ‘গদ্দার’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ লিখে দিয়েছেন।
বিক্ষোভের মুখে সাংসদদের বাসভবন
পাঞ্জাবের জলন্ধরে হরভজন সিংয়ের বাসভবন এবং লুধিয়ানায় সন্দীপ পাঠকের বাড়ির বাইরের দেওয়ালে কালি লেপে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফাগওয়াড়ায় অশোক মিত্তলের মালিকানাধীন লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির প্রধান প্রবেশদ্বারেও বিক্ষোভকারীরা সাংসদদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাতে কালি মাখিয়ে দেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পাঞ্জাবের মানুষ যে বিশ্বাসের সাথে তাদের ভোট দিয়ে পাঠিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থে সেই বিশ্বাসের সাথে এই সাংসদরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও দলত্যাগ বিরোধী আইন
সাংসদদের এই গণ-দলত্যাগের ফলে আপের অন্দরে বড় ধরণের ফাটল দেখা দিয়েছে। রাঘব চাড্ডা, স্বাতী মালিওয়াল ও বিক্রম সিং সাহনিসহ এই সাত সাংসদ দলের মোট সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ হওয়ায় আইনগতভাবে তাদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আপ নেতৃত্বের অভিযোগ, ‘অপারেশন লোটাস’-এর মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে এই দলবদল করানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই যোগদানের মাধ্যমে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে।
এক ঝলকে
- রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে সাতজন আপ সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
- হরভজন সিং ও সন্দীপ পাঠকসহ সাংসদদের বাসভবনের দেওয়ালে ‘গদ্দার’ লিখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে।
- দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা থাকায় দলবদল করলেও এই নেতাদের রাজ্যসভা সদস্যপদ বজায় থাকবে।
- আম আদমি পার্টি একে পাঞ্জাবের মানুষের সাথে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করেছে।