পুতিনের দুর্গে বিদ্রোহের আগুন! রাশিয়ায় কি ফের ১৯১৭-র রক্তক্ষয়ী বিপ্লব? কাঁপছে ক্রেমলিন

দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খোদ ক্রেমলিনের অন্দরমহল থেকেই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পুতিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী নেতা গেন্নাদি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়া এখন এক গণবিপ্লব বা অভ্যুত্থানের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ১৯১৭ সালের ঐতিহাসিক রুশ বিপ্লবের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারের ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন।
অর্থনৈতিক সংকট ও নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা
গেন্নাদি সরাসরি পুতিনকে আক্রমণ না করলেও সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ক্ষমতাসীন দলের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, গত সাত বছরের মধ্যে পুতিনের জনপ্রিয়তা এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। পশ্চিমা বিশ্বের ক্রমাগত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার জিডিপি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য ও যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং জ্বালানি রপ্তানিতে বাধার কারণে দেশের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হচ্ছে। পুতিনের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরাও এখন তাদের সম্পদ ও প্রভাব রক্ষায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন, যা ক্রেমলিনের অভ্যন্তরীণ ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
চার বছরের এই যুদ্ধ রাশিয়ার রপ্তানি আয় কমিয়ে দিয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধস নামিয়েছে। যদিও রাশিয়া তার বাণিজ্যের মোড় ভারত ও চীনের দিকে ঘুরিয়েছে, তবুও অভ্যন্তরীণ বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে পুতিনের যে ‘অজেয়’ ভাবমূর্তি ছিল, তা এখন সংকটের মুখে। পুতিনের অনুগতরা মনে করছেন, অবিলম্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার না আনলে দেশ বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হবে। তবে পুতিন অত্যন্ত শক্তিশালী নেতা হওয়ায় এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা তাঁর জন্য আসাম্ভব নয় বলে অনেকে মনে করেন।
এক ঝলকে
- পুতিনের ঘনিষ্ঠ নেতা গেন্নাদি রাশিয়ায় ১৯১৭ সালের মতো বড় বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের সতর্কতা দিয়েছেন।
- গত সাত বছরের মধ্যে বর্তমানে রুশ প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।
- পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাত মারাত্মক সংকটের মুখে।
- দীর্ঘস্থায়ী ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ক্রেমলিনের অন্দরে অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে।