শিকার করতে ময়দানে নেমেছেন মমতা, বিস্ফোরক অভিযোগ অধীর চৌধুরীর

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা শেষ হতেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘শিকারের রাজনীতি’র গুরুতর অভিযোগ তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, প্রথম দফার ভোটের প্রবণতা দেখে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এখন কংগ্রেস প্রার্থীদের ভাঙিয়ে নেওয়ার খেলায় মেতেছে শাসকদল। এই কাজে আই-প্যাককে (I-PAC) হাতিয়ার করা হচ্ছে বলেও তিনি সরাসরি তোপ দেগেছেন।
কংগ্রেস শিবিরে ভাঙন ধরার চেষ্টা
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন তাঁর পায়ের তলার মাটি সরছে। হার নিশ্চিত জেনে তিনি এখন মরিয়া হয়ে কংগ্রেসের নেতা ও প্রার্থীদের কেনার চেষ্টা করছেন। অধীরের মতে, বিজেপি যেমন কেন্দ্রীয় স্তরে দল ভাঙানোর রাজনীতি করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাংলার মাটিতে ঠিক একই পথ অনুসরণ করছেন। রাঘব চাড্ডার দলবদল প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাফ বলেন, বিজেপি এবং তৃণমূল—উভয় দলই বিরোধী শূন্য রাজনীতির লক্ষ্যে কাজ করছে।
ভয়ের পরিবেশ ও ভোটব্যাংকের রাজনীতি
অধীর চৌধুরীর মতে, তৃণমূল রাজ্যে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারি আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তৃণমূল নেত্রী পরোক্ষভাবে কংগ্রেসকে দুর্বল করে রাজ্যে বিজেপির হাত শক্ত করছেন বলেও তিনি দাবি করেন। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মমতার এই কৌশলকে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন বহরমপুরের এই প্রভাবশালী নেতা।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার ভোটের পর পরাজয়ের আশঙ্কায় তৃণমূল প্রার্থীদের কেনার চেষ্টা করছে বলে অধীর চৌধুরীর অভিযোগ।
- দল ভাঙানোর কাজে ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাককে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
- বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়কেই ‘শিকারের রাজনীতি’র প্রবক্তা হিসেবে আক্রমণ শানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
- আর্থিক সহায়তা বন্ধের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।