“রাত ১টাতেও নির্ভয়ে ঘুরবে মেয়েরা”, মমতা-দুর্গে দাঁড়িয়ে নারী নিরাপত্তা নিয়ে শাহী ডেডলাইন!

পশ্চিমবঙ্গের চলমান বিধানসভা নির্বাচনে নারী নিরাপত্তা এবং সিএএ ইস্যুকে হাতিয়ার করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে আয়োজিত এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করেন তিনি। শাহ অভিযোগ করেন, তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যের মহিলারা সবথেকে বেশি লাঞ্ছিত হয়েছেন। বিশেষ করে সন্দেশখালি ও আরজি করের মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে সামনে এনে তিনি দাবি করেন, নারী সুরক্ষা নিশ্চিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
নারী নিরাপত্তায় সময়সীমা নির্ধারণ
মুখ্যমন্ত্রীর পুরোনো কিছু মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শাহ এদিন ৫ মে-র একটি নির্দিষ্ট ডেডলাইন বা সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে মহিলারা রাত ১টাতেও নির্ভয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারবেন এবং কোনো অপরাধী তাদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না। নারী সুরক্ষাকে নির্বাচনী প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এনে তিনি তৃণমূলের নারী ভোটব্যাঙ্কেও ফাটল ধরাতে চাইছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাস ও সিএএ কার্ড
প্রথম দফার নির্বাচন শেষে জয়ের ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ইতিপূর্বেই ১১০টিরও বেশি আসন নিশ্চিত করে ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব বা সিএএ কার্যকর করার যে আশ্বাস তিনি দিয়েছেন, তা সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সমীকরণ বদলে দিতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ কার্যকরে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে শাহ শরণার্থী পরিবারগুলোকে সম্মানজনক নাগরিকত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
শাহের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং সরকার গড়ার দাবি রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। নারী নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো আসন্ন দফার ভোটগুলোতে ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
এক ঝলকে
- নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ৫ মে-র ডেডলাইন বেঁধে দিলেন অমিত শাহ।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলারা মধ্যরাতেও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস।
- প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টিতে জয়ের দাবি করে সরকার গড়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ।
- মতুয়া সম্প্রদায়ের সিএএ কার্যকর ও শরণার্থী পরিবারগুলোকে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত।