‘লিখে রাখুন, ২০০ পার হবেই’, শাহকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বড় দাবি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি আর শেষ দফার আগে ডবল সেঞ্চুরির হুঙ্কার দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ১০০টি আসনের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে।
ডবল সেঞ্চুরির লক্ষ্যমাত্রা
শনিবার একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, তিনি সচরাচর ভবিষ্যৎবাণী করেন না, কিন্তু যখন করেন তা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। এবারের নির্বাচনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে, যার মধ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। অভিষেকের দাবি অনুযায়ী, এই আসনগুলোর মধ্যেই তৃণমূল ১০০-র বেশি আসন পকেটে পুরে ফেলেছে, যা সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগারের অত্যন্ত কাছাকাছি। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট শেষে জোড়াফুল শিবির অনায়াসে ২০০-র গণ্ডি বা ‘ডবল সেঞ্চুরি’ পার করবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
বিজেপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দাবির পাল্টা দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন। দিল্লির নেতাদের সমালোচনা করে তিনি জানান, বাংলার মানুষ ভয় দেখিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ আসন থাকায় এবং এই অঞ্চল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় অভিষেকের এই আত্মবিশ্বাস আরও জোরালো হয়েছে। তীব্র গরমের মাঝে বিজেপি নেতাদের বেশি করে জল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধীদের দিকে।
অভিষেকের এই দাবি বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রথম দফাতেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি যেমন দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে চেয়েছেন, তেমনই বিরোধীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৪ মে ফলাফল প্রকাশের দিন এই ‘ভবিষ্যৎবাণী’ কতটা বাস্তবে রূপ পায়।
এক ঝলকে
৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিকে তাকিয়ে এখন গোটা রাজনৈতিক মহল।
প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যেই ১০০ পার করার দাবি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট মিটলে আসন সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস।
অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত তৃণমূল।