ইরান যুদ্ধের মহাজাগতিক অভিশাপ! ‘ট্রিপল শকে’ নিঃস্ব হবে ৩ কোটির বেশি মানুষ, চরম বার্তা রাষ্ট্রপুঞ্জের

ইরান যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে যেতে পারে বলে চরম সতর্কতা জারি করেছে জাতিসংঘ। ইউএনডিপি (UNDP) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, খাদ্য অনিরাপত্তা এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি—এই তিনমুখী সংকটে বা ‘ট্রিপল শক’-এ পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকিতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই বিপর্যয় আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে।
অস্থিতিশীল জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ সংকট
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সার উৎপাদন ও জাহাজীকরণ বা শিপিং খাতের ওপর। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো মারাত্মক খাদ্য সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির চড়া দাম বজায় থাকলে দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকই ঘটবে এমন ৩৭টি দেশে, যারা মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও মানবিক চ্যালেঞ্জ
ইউএনডিপি প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু জানিয়েছেন, এই সংঘাত অনেক দেশের দীর্ঘদিনের অর্জিত উন্নয়নকে উল্টো দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দরিদ্র দেশগুলোর মানুষেরা যারা লড়াই করে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছিল, তারা আবার সেই অন্ধকারেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, এই সংকটের ক্ষত বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রয়োজন হলেও পশ্চিমা দেশগুলোর সাহায্য কমানোর প্রবণতা বিপদকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এক ঝলকে
- ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন।
- জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট এবং ধীর গতির জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে ‘ট্রিপল শক’ তৈরি করছে।
- হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন ও সার উৎপাদনে খরচ বেড়েছে।
- এশিয়া ও আফ্রিকার ৩৭টি জ্বালানি আমদানিকারক দেশ সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।