ডিজিটাল যুগেও হাতে লেখা চিঠি আর ‘হিউম্যান চেইন’! ইজরায়েলি নজরদারি এড়াতে এ কোন গোপন জালে ইরান চালাচ্ছেন মোজতবা?

আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখন চলছে হাতে লেখা চিঠি আর বিশ্বস্ত মানুষের তৈরি ‘হিউম্যান চেইন’ বা মানব শৃঙ্খলের মাধ্যমে। সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও নিজেকে রেখেছেন লোকচক্ষুর আড়ালে। মূলত ইসরায়েল ও আমেরিকার হাই-টেক নজরদারি এড়াতেই তিনি কোডিং বা ইমেলের বদলে চিরকুট ও সিলমোহরযুক্ত খাম ব্যবহারের এই গোপন পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।
আড়ালে থেকেই কড়া শাসন
বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবার কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাঁর প্রতিটি নির্দেশ হয় লিখিত আকারে আসছে, নয়তো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হচ্ছে। রেভল্যুশনারি গার্ডের শীর্ষ কমান্ডার থেকে শুরু করে সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। শত্রুপক্ষ যাতে তাঁর কণ্ঠস্বর বা অবস্থান শনাক্ত করে নিখুঁত হামলা চালাতে না পারে, সেজন্যই এই কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করা হচ্ছে।
শারীরিক আঘাত ও বর্তমান অবস্থান
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ হামলায় মোজতবা খামেনেই গুরুতর আহত হন। তাঁর মুখে ও পায়ে আঘাত থাকায় স্বাভাবিক চলাফেরা ও কথা বলায় কিছুটা সমস্যা থাকলেও তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন।
ইরান এসব তথ্যকে শত্রুপক্ষের অপপ্রচার বলে দাবি করলেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে অনড় অবস্থান দেশটির কঠোর ও গোপন কৌশলেরই বহিঃপ্রকাশ। কূটনীতির পথ প্রায় বন্ধ থাকায় আড়ালে থাকা এই নেতৃত্বের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এক ঝলকে
- ডিজিটাল মাধ্যমের বদলে হাতে লেখা চিরকুট ও গোপন মানব শৃঙ্খলের মাধ্যমে ইরান পরিচালনা করছেন মোজতবা খামেনেই।
- শত্রুপক্ষের প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ড্রোন হামলা এড়াতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে।
- আগের এক হামলায় আহত হলেও পর্দার আড়াল থেকে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বর্তমান এই নেতা।
- আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে তেহরান।