‘ভয় নয়, ঘৃণা থেকে দল ছেড়েছি!’ আপ ত্যাগ করেই কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ রাঘব চাড্ডার

আম আদমি পার্টির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বড়সড় ধাক্কা দিলেন রাঘব চাড্ডা। দল ছাড়ার কারণ হিসেবে কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার ভয় নয়, বরং বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তীব্র অনীহা ও ঘৃণাকেই দায়ী করেছেন তিনি। শনিবার এক বিবৃতিতে রাঘব দাবি করেন, যে আদর্শ ও মূল্যবোধ নিয়ে আপ গঠিত হয়েছিল, বর্তমান নেতৃত্ব তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়েছে। তাঁর মতে, যারা কঠোর পরিশ্রমে দল গড়েছিলেন, সৎ ও নিষ্ঠাবান সেই কর্মীদের জন্য এখন আর সেখানে কোনো স্থান নেই।
দলত্যাগের নেপথ্যে নৈতিক অবক্ষয়
রাঘব চাড্ডার অভিযোগ অনুযায়ী, দলের নীতি-নির্ধারণী অংশ এখন দুর্নীতি ও আপসকামিতার পথে হাঁটছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না চাওয়ায় দলের অন্দরে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তার সামনে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া অথবা নতুনভাবে শুরু করার দুটি পথ খোলা ছিল, যার মধ্যে তিনি ইতিবাচক রাজনীতির স্বার্থে দলবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূলত নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোই এই গণ-পদত্যাগের প্রধান কারণ বলে তিনি মনে করছেন।
রাজ্যসভায় রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তন
এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে রাজ্যসভার গাণিতিক হিসেবে। রাঘব চাড্ডা ছাড়াও হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল ও সন্দীপ পাঠকের মতো প্রভাবশালী ৭ জন সাংসদ একযোগে পদত্যাগ করেছেন। আপের মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জনই বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় সংবিধানের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের সদস্যপদ বাতিল হচ্ছে না। এর ফলে রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির শক্তি যেমন তলানিতে ঠেকেছে, তেমনি দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁড়া এড়িয়ে বিজেপি নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলল।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আপ নেতৃত্ব এই দলত্যাগকে কেন্দ্রীয় চাপের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছে। সঞ্জয় সিং ইতোমধ্যেই বিদ্রোহী সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জানিয়েছেন। তবে আইনি জটিলতা এড়িয়ে সাত সাংসদের এই দলবদল দিল্লির রাজনীতিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের জন্য এক বড়সড় অস্তিত্বের সংকট তৈরি করল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙন ভবিষ্যতে আপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও জনসমক্ষে নিয়ে আসবে।
এক ঝলকে
- কেন্দ্রীয় সংস্থার ভয় নয়, বরং আদর্শিক ঘৃণা থেকেই দল ছেড়েছেন বলে দাবি রাঘব চাড্ডার।
- রাঘব চাড্ডা, হরভজন সিং ও স্বাতী মালিওয়ালসহ মোট ৭ জন আপ সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
- দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একযোগে দল ছাড়ায় তাঁদের সাংসদ পদ বহাল থাকছে।
- আপ নেতৃত্ব এই ঘটনাকে রাজনৈতিক চাপ বললেও বিদ্রোহীরা দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিকে দায়ী করছেন।