“ওসি-র চেয়ার থাকল তো?” অনুমতি না মেলায় কালীঘাটে পুলিশ বদলি হতেই হুঙ্কার শুভেন্দুর!

“ওসি-র চেয়ার থাকল তো?” অনুমতি না মেলায় কালীঘাটে পুলিশ বদলি হতেই হুঙ্কার শুভেন্দুর!

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এবং তার প্রেক্ষিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার থানায় বড়সড় পুলিশি রদবদল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শনিবার রাতে ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় বচসা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, এর কিছু আগেই নির্বাচন কমিশন কালীঘাট থানার ওসিসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ জারি করে। এই পদক্ষেপের নেপথ্যে বিজেপির প্রতি অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী।

বিজেপি প্রার্থীর হুঁশিয়ারি ও পুলিশি রদবদল

বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, তাঁকে নির্বাচনী জনসভা করার অনুমতি না দেওয়ায় এবং বিজেপি কর্মীদের ওপর পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণেই নির্বাচন কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কালীঘাট থানার ওসি উৎপল ঘোষকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় গৌতম দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসিসহ আলিপুর ও উল্টোডাঙা মহিলা থানার শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনসভা থেকে সরাসরি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহারের খেসারত দিতেই এই বদলি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ভোটমুখী ভবানীপুরে যেখানে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট প্রার্থী লড়ছেন, সেখানে থানার ওসি বদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই রদবদলের ফলে প্রচারের ময়দানে শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় পুলিশ আরও বেশি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিরোধীদের দাবি ও কমিশনের পদক্ষেপে শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

এক ঝলকে

  • নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কালীঘাট, আলিপুর ও উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি বদল করা হয়েছে।
  • প্রচারের অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগে পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
  • বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ড।
  • কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *