তৃণমূলের প্রচারে ভোজপুরী তারকা কেশরি লাল যাদব, বাঙালি নারীদের অবমাননার অভিযোগে সরব বিরোধীরা

বাংলার নির্বাচনী ময়দানে বাঙালি অস্মিতা ও মা-বোনেদের সম্মানের লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে ভোজপুরী অভিনেতা তথা গায়ক কেশরি লাল যাদবের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের হয়ে ভোট প্রচারে অবাঙালি তারকাদের এই অংশগ্রহণকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী পক্ষ। তাদের দাবি, যে রাজনৈতিক দল সারাক্ষণ বহিরাগত তকমা দিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ করে, তারা এখন ভোট টানতে এমন এক ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করছে যাঁর কাজ বাংলার সংস্কৃতি ও মহিলাদের জন্য অবমাননাকর।
বিরোধীদের আক্রমণের নিশানায় কেশরি
বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ হলো কেশরি লাল যাদবের অভিনীত সিনেমা ও গানের বিষয়বস্তু নিয়ে। তাদের মতে, কেশরির একাধিক জনপ্রিয় গানের কথা ও উপস্থাপনায় বাঙালি নারীদের প্রতি অত্যন্ত কুরুচিকর এবং আসাম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এমন এক অভিনেতা যখন তৃণমূলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলার মা-বোনেদের আশীর্বাদ চাইছেন, তখন তাকে দ্বিচারিতা বলে কটাক্ষ করছে বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের সাফ বক্তব্য, এই প্রচারের মাধ্যমে তৃণমূল আসলে বাংলার নারীদের মর্যাদাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সংঘাত
তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই ‘বাংলার নিজের মেয়ে’ কিংবা বাঙালি জাতীয়তাবাদের আবেগকে পুঁজি করে প্রচার চালিয়ে আসছে। তবে খাস কলকাতায় বা অবাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে ভোট নিশ্চিত করতে ভোজপুরী তারকাদের এই ব্যবহার দলের এই অস্মিতার প্রচারকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ইস্যুটিকে ইস্যু করে নারী নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে তৃণমূলকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে পাঠাতে চাইছে। ভোটমুখী বাংলায় এই অবাঙালি তারকা-রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কার পালে হাওয়া কাড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিলেন ভোজপুরী সুপারস্টার কেশরি লাল যাদব।
- কেশরির গানে বাঙালি মহিলাদের অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রচারে নামল বিরোধীরা।
- বাঙালি অস্মিতার রাজনীতিতে তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে বড় ধরণের বিচ্যুতি হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
- অবাঙালি তারকাদের ব্যবহার করে ভোট টানার কৌশলে নারী সম্মানের প্রশ্নটিই এখন প্রধান বিতর্কিত ইস্যু।