সম্পর্ক বাঁচাতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন? ‘ওভার ইনভেস্ট’ করার মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো জেনে নিন

সম্পর্ক বাঁচাতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন? ‘ওভার ইনভেস্ট’ করার মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো জেনে নিন

প্রিয়জনকে ভালো রাখতে গিয়ে আমরা অনেক সময়ই নিজের সবটুকু উজাড় করে দিই। কিন্তু সম্পর্কে এই ‘ওভার ইনভেস্ট’ বা অতিরিক্ত যত্নশীল হওয়ার ফল কি সবসময় ভালো হয়? প্রিয়জনের প্রতি যত্নশীল হওয়া মোটেও অন্যায় নয়, তবে কাকে কতটা গুরুত্ব দেবেন, তা বুঝতে না পারলে আখেরে ক্ষতি হয় নিজেরই। প্রেমের সম্পর্ক হোক বা পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মী—অন্যের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে নিজের লক্ষ্য ও অস্তিত্ব থেকে সরে আসার এই প্রবণতা ভেতর ভেতর মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়। আপনিও কি নিজের অজান্তে এই ভুল করছেন? নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন।

ইমোশনাল ‘অটো-পাইলট’ মোড

সম্পর্কে অতিরিক্ত ইনভেস্ট করলে ধীরে ধীরে নিজের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাইরের মানুষ বুঝতেই পারে না আপনার ভেতরের পরিবর্তন। আপনি যেন একটি যন্ত্রের মতো ‘অটো-পাইলট’ মোডে চলতে থাকেন—শুধু সেটুকুই করেন, যতটুকু অন্যের জন্য প্রয়োজন। নিজের ইচ্ছে বা আবেগের কোনো জায়গা সেখানে থাকে না।

প্রতিনিয়ত নিজেকে অবহেলা করা

নিজের ভালো লাগা বা মন্দ লাগাগুলো ক্রমশ পেছনের সারিতে চলে যেতে থাকে। রেস্তোরাঁয় খাবারের অর্ডার দেওয়া থেকে শুরু করে জীবনের বড় কোনো সিদ্ধান্ত—সব কিছুতেই অন্যের পছন্দকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিজের পছন্দগুলো হারিয়ে যায়। একসময় নিজের অপছন্দের কথাও মুখ ফুটে বলার ইচ্ছে থাকে না, যা আপনাকে মানসিকভাবে ভীষণ একা করে দেয়।

সারাক্ষণ অহেতুক দুশ্চিন্তা

আপনার কোনো কথায় বা কাজে অন্যের কী প্রতিক্রিয়া হবে, তা নিয়ে সারাক্ষণ একটা চাপা উদ্বেগ কাজ করে। কোনো অশান্তি বা দ্বন্দ্ব এড়াতে গিয়ে নিজের তীব্র অপছন্দের কাজও আপনি নির্দ্বিধায় মেনে নেন। অন্যের কাছে ‘ভালো’ সাজার এই নিরন্তর চেষ্টা একসময় আপনাকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে তোলে।

অকারণে মানসিক ক্লান্তি

এই ক্লান্তি ঠিক শারীরিক নয়, বরং গভীর মানসিক। মানুষের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা, ছোটখাটো বিষয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলা বা খিটখিটে মেজাজ—এগুলো মানসিক অবসাদের লক্ষণ। অন্যের মন জুগিয়ে চলতে চলতে কখন যে আপনি নিজেই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, তা হয়তো টেরই পাননি।

মিথ্যে আশায় দিন কাটানো

বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার বদলে, মন সব সময় ভবিষ্যতের কোনো অলীক সম্ভাবনার দিকে ছুটে যায়। মস্তিষ্ক হয়তো বারবার সতর্ক করে যে এই কাজ ঠিক নয়, তবুও আবেগের বশে আপনি নিজেকে আটকাতে পারেন না। ‘একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে’—এমন মিথ্যে আশা আঁকড়ে ধরে নিজের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দুটোই নষ্ট করে ফেলেন।

মনে রাখবেন, নিজে ভালো না থাকলে অন্য কাউকেই ভালো রাখা সম্ভব নয়। যদি আপনার সঙ্গেও এমনটা ঘটে থাকে, তবে আজই সতর্ক হোন। নিজেকে সময় দিন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সিলরের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন স্বাধীন মানব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *