কুম্ভকর্ণের ঘুমও হার মানবে! প্রকৃতির এই ‘অলস ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’-এর সাথে পরিচিত হোন এখনই

নিজে কি খুব অলস? একটু কাজ করলেই কি মনে হয় অনেক ধকল গেল? তা হলে আলাপ করুন প্রকৃতির এমন এক বিচিত্র সদস্যের সাথে, যার কাছে কুম্ভকর্ণের ঘুমও নস্যি। আমরা কথা বলছি স্লথ (Sloth)-কে নিয়ে, যাকে এক কথায় প্রকৃতির ‘অলস ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ বলা যেতে পারে। এর জীবনযাত্রার ধরন জানলে যে কেউ ভিরমি খাবেন।
২২ ঘণ্টার ঘুম আর মন্থর গতি
স্লথের দিনের প্রায় ২২ ঘণ্টাই কাটে গভীর ঘুমে। বাকি যে দু-এক ঘণ্টা তারা জেগে থাকে, সেই সময়কার ক্ষিপ্রতা আরও চমকপ্রদ। এই প্রাণীটি ঘণ্টায় মাত্র ০.২৪ কিলোমিটার গতিতে চলে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এক গাছ থেকে অন্য গাছে যেতে এদের কখনও কখনও দুই দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ডাঙায় এরা ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না, কেবল নখের সাহায্যে নিজেদের টেনে টেনে শরীরটাকে সামনে বাড়ায়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্থলের তুলনায় এরা জলে তিন গুণ বেশি দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে।
এক পাতা হজম করতে লাগে এক মাস
স্লথের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম বিশ্বের অন্যতম ধীরগতির। মানুষ যেখানে কয়েক ঘণ্টায় খাবার হজম করে ফেলে, সেখানে একটি স্লথের পেটে যাওয়া মাত্র একটি পাতা পুরোপুরি হজম হতে সময় লাগে প্রায় ৩০ দিন। এদের শরীরে শক্তির জোগান এতই কম থাকে যে, সেই সামান্য শক্তিটুকু বাঁচানোর জন্যই এরা নড়াচড়া না করে স্থির হয়ে পড়ে থাকা পছন্দ করে।
শৌচাগারে যাওয়া মানেই মৃত্যুর ঝুঁকি
স্লথ তার জীবনের প্রায় ৯০ শতাংশ সময় গাছের ডালে উল্টো হয়ে ঝুলে কাটায়। এমনকি খাওয়ার জন্য বা ঘুমের জন্যও তারা নিচে নামে না। কিন্তু এই চূড়ান্ত অলস প্রাণীটি সপ্তাহে মাত্র একবার গাছ থেকে নিচে নামে শুধু শৌচকর্ম সারতে। তবে এই অভ্যাসটি তাদের জন্য চূড়ান্ত বিপদ ডেকে আনে। মাটির কাছাকাছি এলে তারা শিকারে পরিণত হওয়ার সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, বন্য পরিবেশে প্রায় ৫০ শতাংশ স্লথ মারা যায় এই শৌচাগারে যাওয়ার সময়টুকুতেই।
নিজের শরীরে আস্ত এক বাস্তুতন্ত্র
স্লথ কেবল অলস নয়, সে নিজেই একটি চলন্ত জঙ্গল। তার শরীরের লোমে এক ধরনের সবুজ শ্যাওলা জন্মায়। এই শ্যাওলা তাকে বন্য পরিবেশে শত্রুর হাত থেকে লুকিয়ে থাকতে (ক্যামোফ্লেজ) সাহায্য করে। শুধু শ্যাওলা নয়, নানা ধরনের পোকামাকড়ও তার পশমের ভেতর দিব্যি ঘর-সংসার পেতে বসে। আসলে, আলস্যই এদের টিকে থাকার প্রধান অস্ত্র— কম শক্তি খরচ করা এবং চুপচাপ পড়ে থাকাই তাদের জীবন যুদ্ধের মন্ত্র।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।