মহাজনি কারবার অতীত, ক্ষুদ্র ঋণে স্বাবলম্বী হচ্ছে বাংলা! ব্যবসার প্রসারে এগিয়ে মহিলারা

মহাজনি কারবার অতীত, ক্ষুদ্র ঋণে স্বাবলম্বী হচ্ছে বাংলা! ব্যবসার প্রসারে এগিয়ে মহিলারা

পশ্চিমবঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের এক নতুন চিত্র উঠে আসছে। গতানুগতিক মহাজনি প্রথা বা অসংগঠিত ক্ষেত্রের চড়া সুদের জাল ছিঁড়ে এখন ক্ষুদ্র ঋণের (Micro-finance) মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন রাজ্যের মানুষ। সাম্প্রতিক এক যৌথ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বাংলায় ক্ষুদ্র ব্যবসার পত্তন এবং আত্মনির্ভর হওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

মহিলাদের দাপট ও নতুন ব্যবসার জোয়ার

এই ঋণগ্রহীতাদের তালিকার এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছেন মহিলারা। ঘরোয়া কুটির শিল্প থেকে শুরু করে ছোট ছোট দোকান বা বুটিক— নিজেদের উদ্যোগকে বড় করতে মহিলাদের প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুদ্র ঋণ। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে তাঁরা যেমন আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেন, তেমনই ঋণের কিস্তি মেটানোর ক্ষেত্রেও বাড়ছে পেশাদারিত্ব। সমীক্ষা বলছে, বেশিরভাগ মহিলাই নতুন ব্যবসা শুরু বা পুরনো ব্যবসার স্টক বাড়ানোর কাজে এই অর্থ ব্যবহার করছেন।

পরিসংখ্যানের আয়নায় বাংলার ক্ষুদ্র ঋণ

সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে মাথাপিছু গড় ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৫২,৪১৯ টাকা। এই টাকা মূলত প্রান্তিক ও মাঝারি ব্যবসার প্রসারে ব্যয় করা হচ্ছে। ঋণ শোধ করার ক্ষেত্রেও বাংলার গ্রাহকরা বেশ নিয়মানুবর্তী। গড়ে মাত্র ২৩ সপ্তাহের মধ্যেই শোধ হয়ে যাচ্ছে এই ঋণের টাকা, যা রাজ্যের ক্ষুদ্র অর্থনীতিতে অর্থের দ্রুত সঞ্চালন এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই পরিবর্তনের ফলে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় শুধু যে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসছে তাই নয়, বরং মহাজনদের শোষণ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে আসার এই মানসিকতা বাংলার প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির বুনিয়াদকে ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে আরও শক্তিশালী করছে।

এই ক্ষুদ্র ঋণের প্রসারে কি গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সমস্যা মিটছে বলে আপনি মনে করেন, নাকি সাধারণ মানুষের ঋণের দায়ে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে?

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *