আকাশছোঁয়া তেলের দাম কি এবার কমবে? ৯০ ডলারে নামার পূর্বাভাস দিলেন বিশেষজ্ঞরা

আকাশছোঁয়া তেলের দাম কি এবার কমবে? ৯০ ডলারে নামার পূর্বাভাস দিলেন বিশেষজ্ঞরা

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে আকাশচুম্বী। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude) দাম ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং দেশীয় ফিউচার মার্কেটে (MCX) প্রতি ব্যারেলের দাম ৯,০০০ টাকার উপরে। এই আকস্মিক বৃদ্ধিতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চড়া দাম বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না এবং খুব শীঘ্রই তা ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে নেমে আসতে পারে।

তেলের বাজার ‘ফুটছে’ কেন?

জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।

  • হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ: বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথটি বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ। এপ্রিল মাস থেকে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির কথা বলা হলেও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
  • সরবরাহ সংকট: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) একে ইতিহাসের অন্যতম বড় সরবরাহ সংকট বলে চিহ্নিত করেছে। এই সংকটের আশঙ্কায় বাজারে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা শুরু হওয়ায় তেলের দাম এক ধাক্কায় ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে।

কেন দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা?

আশঙ্কার মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে সাম্প্রতিক কিছু কূটনৈতিক তৎপরতা। তেলের বাজারের এই তেজিভাব যে টেকসই নয়, তার পিছনে কয়েকটি যুক্তি উঠে আসছে:

  • ইরানের নয়া প্রস্তাব: ‘অ্যাক্সিওস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।
  • ট্রাম্পের বৈঠক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপথ খোলার আনুষ্ঠানিক খবর আসা মাত্রই তেলের দাম থেকে ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা উত্তেজনার কারণে হওয়া বাড়তি দাম দ্রুত উধাও হয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ও লক্ষ্যমাত্রা

বিশ্বের নামী ব্রোকারেজ সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা তেলের দাম নিয়ে বেশ কিছু আশাব্যঞ্জক পূর্বাভাস দিয়েছেন:

  • গোল্ডম্যান স্যাক্স: বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই (WTI) ৮৩ ডলারে নেমে আসবে।
  • কোটাক সিকিউরিটিজ: সংস্থার বিশেষজ্ঞ কায়ানাত চেইনওয়ালার মতে, উত্তেজনা জারি থাকা পর্যন্ত দাম ১০০-১০৫ ডলারে থাকলেও, সমুদ্রপথ খোলার খবর নিশ্চিত হলে তা দ্রুত ধসে পড়বে। দেশীয় বাজারে (MCX) তেলের দাম ৭,৫০০-৮,০০০ টাকার স্তরে নেমে আসতে পারে।

বর্তমানে তেলের বাজার মূলত খবরের ওপর ভিত্তি করে এবং আবেগ দ্বারা চালিত হচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধিতে আতঙ্কিত না হয়ে বাজারের স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত। উত্তেজনার মেঘ কেটে গেলেই অপরিশোধিত তেলের দাম পুনরায় স্বাভাবিক স্তরে ফিরবে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *