ভৌম প্রদোষ ব্রত ২০২৬: আজই সেই মহাযোগ! বাড়িতে শিবের অভিষেক করার সঠিক নিয়ম ও শুভ মুহূর্ত জেনে নিন

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দেবাদিদেব মহাদেবের আশীর্বাদ লাভের শ্রেষ্ঠ তিথি হলো প্রদোষ ব্রত। তবে এই ব্রত যখন মঙ্গলবার পড়ে, তখন তাকে বলা হয় ভৌম প্রদোষ ব্রত। ২০২৬ সালের ২৮শে এপ্রিল, অর্থাৎ আজই পালিত হচ্ছে এই বিশেষ তিথি। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, মঙ্গল গ্রহের সঙ্গে শিবের এই মেলবন্ধন ভক্তদের জীবনে সাহস, শক্তি এবং বিশেষ করে ঋণমুক্তি নিশ্চিত করে।
পূজার শুভ সময় ও মাহাত্ম্য
প্রদোষ ব্রতের মূল পূজা অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রদোষ কালে’, অর্থাৎ সূর্যাস্তের ঠিক পরের সময়টিতে। আজ সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর প্রায় ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে মহাদেবের আরাধনা করা সবথেকে ফলদায়ক। মনে করা হয়, এই সময়ে কৈলাসে শিব ও পার্বতী অত্যন্ত প্রসন্ন থাকেন, তাই ভক্তদের প্রার্থনা খুব দ্রুত মঞ্জুর হয়।
বাড়িতে যেভাবে করবেন শিবের অভিষেক
মহাদেবকে তুষ্ট করার সহজ উপায় হলো ‘অভিষেক’। আজ ঘরে বসে খুব সহজেই আপনি এই আচার পালন করতে পারেন:
- সংকল্প: সকালে স্নান সেরে শিবলিঙ্গের সামনে প্রদীপ জ্বেলে সারা দিন উপবাস বা সাত্ত্বিক থাকার সংকল্প করুন।
- শুদ্ধিকরণ: সন্ধ্যায় প্রদোষ কালে প্রথমে গঙ্গাজল দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করান।
- পঞ্চামৃত অভিষেক: এরপর দুধ, দই, ঘি, মধু এবং চিনি—এই পাঁচটি উপকরণ বা পঞ্চামৃত দিয়ে পর্যায়ক্রমে মহাদেবের অভিষেক করুন।
- মন্ত্র জপ: অভিষেকের পুরো সময়টি মনে মনে বা উচ্চস্বরে ‘ওম নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করতে থাকুন।
- উপচার অর্পণ: অভিষেকের পর পরিষ্কার জলে স্নান করিয়ে শিবের কপালে চন্দনের তিলক লাগান। এরপর বেলপাতা, ধুতুরা, আকন্দ ফুল এবং অক্ষত (আস্ত চাল) অর্পণ করুন।
- আরতি ও প্রার্থনা: ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে শিবের আরতি করুন এবং অন্তরের মনস্কামনা জানান।
উপবাসের সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
ভৌম প্রদোষ ব্রত পালনের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যা মেনে চলা জরুরি:
- নেতিবাচকতা বর্জন: এই দিনে ক্রোধ, মিথ্যাচার বা কারো মনে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- খাদ্যাভ্যাস: উপবাসে থাকলে কেবল ফল বা একবার সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করা উচিত।
- বর্জিত উপচার: মনে রাখবেন, শিবের পুজোয় ভুল করেও তুলসী পাতা অর্পণ করবেন না।
- সংযম: ভক্তি ও পবিত্রতা বজায় রাখাই এই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য।
ভৌম প্রদোষের বিশেষ উপকারিতা
জ্যোতিষ মতে, মঙ্গলবার মঙ্গল গ্রহের দিন। আর মঙ্গল হলো ঋণমুক্তির কারক। তাই যাঁরা দীর্ঘদিন আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন বা ঋণের দায়ে জর্জরিত, তাঁদের জন্য আজকের ব্রতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা ও দাম্পত্য কলহ মেটাতেও এই ব্রত অব্যর্থ বলে মনে করা হয়।
সম্পাদকের টিপস: আপনি যদি পূর্ণ উপবাস রাখতে না পারেন, তবে ভক্তিভরে কেবল সন্ধ্যার পূজা ও অভিষেক করলেও মহাদেবের কৃপা লাভ সম্ভব। মনে রাখবেন, ভোলানাথ আড়ম্বরের চেয়ে ভক্তির কাঙাল বেশি!