ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় আম্বানির মেগা বাজি! ১.৬ লক্ষ কোটি বিনিয়োগে হবে বিশ্বের ‘ডেটা হাব’

ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় আম্বানির মেগা বাজি! ১.৬ লক্ষ কোটি বিনিয়োগে হবে বিশ্বের ‘ডেটা হাব’

ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুকেশ আম্বানি। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ১.৬ লক্ষ কোটি টাকার এক আকাশছোঁয়া বিনিয়োগ করতে চলেছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এই বিশাল লগ্নির মাধ্যমে দেশে বৃহত্তম ডেটা সেন্টার ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা নেবে।

গুগলকেও ছাপিয়ে যাবে রিলায়েন্সের প্রকল্প

বিশাখাপত্তনমের এই প্রকল্পটি হতে চলেছে ভারতের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার ক্লাস্টার। বর্তমানে এই অঞ্চলে গুগলের ১ গিগাওয়াট (GW) ক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্প কাজ করছে, কিন্তু আম্বানির এই নতুন প্রকল্পের ক্ষমতা হবে প্রায় ১.৫ গিগাওয়াট। রাজ্য সরকারের বিনিয়োগ উন্নয়ন কমিটি ইতিমধ্যেই এই মেগা প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে।

সৌরশক্তি ও পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো

কেবল ডেটা স্টোরেজ নয়, রিলায়েন্সের এই পরিকল্পনায় রয়েছে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের সংস্থানও।

  • বিনিয়োগের ভাগ: মোট ১.৬ লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে ১.০৮ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হবে মূল ডেটা সেন্টার নির্মাণে। বাকি ৫১,৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে সৌর-ব্যাটারি স্টোরেজ ও নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে।
  • বিশাল পরিকাঠামো: এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯৩৫ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি থাকবে কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট।

তিন পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা

পুরো ক্লাস্টারটি ভোগাপুরম বিমানবন্দরের কাছে পোলিপল্লি গ্রামে গড়ে তোলা হবে।

  • প্রথম পর্যায়: ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টারটি ২০২৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
  • দ্বিতীয় পর্যায়: ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১ গিগাওয়াট ক্ষমতা যোগ করে পুরো প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করা হবে।

কেন বিশাখাপত্তনম?

বিশাখাপত্তনম এখন ভারতের ডিজিটাল বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে। রিলায়েন্স ছাড়াও সিফাই টেকনোলজিস, ডিজিটাল কানেকশন এবং অনন্ত রাজ কোয়াডের মতো নামী সংস্থাগুলো এখানে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ‘ডেটা সেন্টার পলিসি ৪.০’ এই শিল্পে বাড়তি গতি দিচ্ছে। এই নীতির আওতায় সংস্থাগুলো জিএসটি ছাড়, মূলধনী ভর্তুকি এবং সরাসরি বিদ্যুৎ কেনার মতো বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।

ভবিষ্যতের এআই হাব

মুকেশ আম্বানির এই বিনিয়োগ কেবল পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং ভারতে এআই-ভিত্তিক পরিষেবা এবং ক্লাউড স্টোরেজের দুনিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে এটি ভারতকে বৈশ্বিক ডেটা ও এআই মানচিত্রে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশের ডেটা ইকোসিস্টেমে এই বিশাল পরিবর্তন কি সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট ডেটার খরচ আরও কমাতে সাহায্য করবে, নাকি এর সুবিধা কেবল বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আপনি মনে করেন?

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *