ভোটের পরেও ২ মাস বাংলায় থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী! কেন এই বেনজির সিদ্ধান্ত?

ভোটের পরেও ২ মাস বাংলায় থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী! কেন এই বেনজির সিদ্ধান্ত?

নির্বাচন মেটার পর সাধারণত কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ছবিটা বদলাতে চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেও আরও ৬০ দিন পশ্চিমবঙ্গেই থাকবে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)। কেন এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, তার কয়েকটি প্রধান কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:

২০২১-এর স্মৃতি এবং ‘ভয়মুক্ত’ পরিবেশ নিশ্চিত করা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যে যে নজিরবিহীন অশান্তি, অগ্নিসংযোগ এবং রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তার পুনরাবৃত্তি আটকাতেই এই পদক্ষেপ। বিরোধীদের দাবি, ভোট মেটার পর শাসকদলের ‘বিজয় উৎসবে’ যেন বিরোধী কর্মীদের আক্রান্ত হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি সুরক্ষা।

৫০০ কো ম্পা নির স্থায়ী উপস্থিতি

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গণনার পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অন্তত ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী (প্রায় ৫০,০০০ জওয়ান) মোতায়েন থাকবে। তারা মূলত:

  • বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা প্রতিরোধ করবে।
  • ভোট-পরবর্তী হিংসাপ্রবণ এলাকাগুলোতে টহল দেবে।
  • সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বোধ বজায় রাখবে।

অমিত শাহের কড়া বার্তা

বেহালার নির্বাচনী সভা থেকে অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোটে মানুষ যেন নির্ভয়ে বুথে যান। তিনি অভয় দিয়ে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বা ফলাফল যাই হোক না কেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও দুই মাস বাংলায় থাকবে যাতে কেউ ভোটার বা বিরোধী কর্মীদের ভয় দেখাতে না পারে।

আইন-শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ নজর

প্রথম দফার ভোটে ৯৩ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোটদান হয়েছে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এই বিপুল জনসমর্থন এবং উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে ফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে। তাই নবান্নের নতুন সরকার বসার প্রাথমিক দিনগুলোতে শান্তি বজায় রাখাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।

এবারের নির্বাচনে মোট ২,৪৫০ কো ম্পা নি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। এর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের জন্য ২,৩২১ কো ম্পা নি মোতায়েন থাকছে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বর্ধিত উপস্থিতি কি আদতে কোনো স্থায়ী সমাধান দেবে, নাকি এটি রাজ্যের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম দেবে বলে আপনার মনে হয়?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *