‘দিদি’ নয়, নিশানায় এবার ‘ভাইপো’ ও সিস্টেম! ২০২৬-এর ভোটে খোলনলচে বদলে ময়দানে বিজেপি

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ২০২৬-এর লড়াইয়ে সম্পূর্ণ নতুন রূপে অবতীর্ণ হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। গত নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ‘বহিরাগত’ তকমা যে হিতে বিপরীত হয়েছিল, তা হাড়লগহ্বরে টের পেয়েছে গেরুয়া শিবির। ফলে এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ—সকলের প্রচারেই কৌশলী বদল চোখে পড়ছে। সরাসরি দলনেত্রীকে আক্রমণ না করে এবার বিজেপির নিশানায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাঙালি সংস্কৃতি ও স্থানীয় আবেগে শান
একুশের নির্বাচনে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানকে হাতিয়ার করলেও এবার বিজেপি অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলার মা-মাটি ও সংস্কৃতির ওপর। রামের বদলে এবার মোদী-শাহর কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি। মাছ-ভাত খাওয়া বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তৃণমূলের প্রচারকে ভোঁতা করতে বিজেপি নেতারাও এবার সর্ষে-ইলিশ বা ঝালমুড়িতে মজেছেন। এমনকি দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও জনসভায় বাংলা ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে ‘বহিরাগত’ তকমা ঘোচানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মহিলা ভোট ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা দাওয়াই
রাজ্যের নারী শক্তিকে পাশে পেতে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বিপরীতে দ্বিগুণ ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিজেপি। ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যেমন রয়েছে, তেমনই আরজি কর কাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুকে সামনে রেখে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি আক্রমণের পথ পরিহার করে মমতার জনমোহিনী প্রকল্পের পাল্টা দাওয়াই দিয়েই এবার বাংলার মসনদ দখলের ব্লু-প্রিন্ট সাজিয়েছে বিজেপি।
এক ঝলকে
- মমতাকে সরাসরি আক্রমণ কমিয়ে এবার ‘ভাইপো’ ও তৃণমূলের সিস্টেমকে নিশানায় রেখেছে বিজেপি।
- হিন্দুত্বের প্রলেপে বাঙালি আবেগ ছুঁতে ‘জয় মা কালী’ স্লোগান এবং মাছ-ভাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- বহিরাগত তকমা মুছতে স্মৃতি ইরানিদের মতো বাঙালি বংশোদ্ভূত নেতাদের প্রচারে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
- মহিলাদের মন জয়ে ৩ হাজার টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি এবং নারী নিরাপত্তাকে প্রধান ইস্যু করা হয়েছে।