‘ডরায়েগা তো ঠোকায়েগা দিদি!’ মমতাকে খুনের হুমকির অভিযোগ, ভোটের আগেই অগ্নিগর্ভ বাংলার রাজনীতি

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগের মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার রাজনীতির ময়দান। বিজেপি মুখপাত্র অজয় অলকের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। ওই পোস্টে ব্যবহৃত ‘ঠোক দো’ শব্দবন্ধটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূলের দাবি, একজন নির্বাচিত নারী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন ভাষা কেবল অবমাননাকরই নয়, বরং প্রাণহানিকরও বটে।
বিজেপি নেতার বিতর্কিত পোস্ট ও তৃণমূলের তোপ
বিজেপি মুখপাত্র অজয় অলক তার পোস্টে লিখেছিলেন, ‘ডরায়েগা তো ঠোকায়েগা দিদি!’ এই মন্তব্যটি শেয়ার করে তৃণমূল অভিযোগ করেছে যে বিজেপি উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ‘এনকাউন্টার সংস্কৃতি’ বাংলায় আমদানি করতে চাইছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অফিসার অজয় পাল শর্মাকে নিয়োগ করা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। শাসকদলের মতে, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্রয়েই এই ধরনের কুরুচিকর সংস্কৃতি প্রশ্রয় পাচ্ছে।
পাল্টা জবাব ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তৃণমূলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পালটা মুখ খুলেছেন অজয় অলক। তার দাবি, তৃণমূল কেবল রাজনৈতিক সমবেদনা পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং হিন্দি শব্দের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের নীরবতা নিয়ে সমালোচনা করে তারা জানিয়েছে যে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী যদি সুরক্ষিত না থাকেন, তবে সাধারণ মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকে যায়। এই বাগযুদ্ধ নির্বাচনের আবহে ভোটারদের মেরুকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- বিজেপি মুখপাত্রের ‘ঠোক দো’ পোস্টকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের হুমকি হিসেবে দাবি করল তৃণমূল।
- উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অফিসারকে বাংলায় পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক।
- বিজেপি এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক সমবেদনা পাওয়ার চেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের নীরবতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বাংলার মানুষের রায়ের ওপর আস্থা রেখেছে শাসকদল।