ভোটের আগেই মালদহে তৃণমূলের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! বিজেপি-কংগ্রেস জোট ভেঙে পঞ্চায়েত দখল করল ঘাসফুল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই মালদহ জেলায় বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। দীর্ঘ টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে পুরাতন মালদা ব্লকের মহিষবাথানী গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার এক রুদ্ধশ্বাস অনাস্থা ভোটে বিজেপি এবং কংগ্রেসের জোটকে পরাজিত করে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখল করে ঘাসফুল শিবির। এই জয়ের পর ডিজে, তাসা এবং আবির খেলায় উৎসবে মেতে ওঠেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।
রাজনৈতিক সমীকরণের রদবদল
পঁচিশ আসন বিশিষ্ট এই গ্রাম পঞ্চায়েতটি গত নির্বাচনের পর থেকেই ত্রিশঙ্কু অবস্থায় ছিল। শুরুতে বিজেপির সমর্থনে কংগ্রেস বোর্ড গঠন করলেও সময়ের সাথে সাথে সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। নির্দল এবং কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় ১৮ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ে। মঙ্গলবারের ভোটাভুটিতে তৃণমূল ১৭টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়, যেখানে বিজেপি পায় মাত্র ৫টি ভোট। ভোটাভুটি শেষে মহিষবাথানী গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূলের রুম্পা রাজবংশী।
উন্নয়ন বনাম দলবদলের তরজা
এই জয়কে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। তৃণমূলের দাবি, এলাকায় উন্নয়নের গতি বজায় রাখতেই এই পরিবর্তন জরুরি ছিল এবং অনিয়ম রুখতেই এই অনাস্থা আনা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির একে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’ বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপির অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে দল ভাঙানো হয়েছে। তবে দলবদলকারী সদস্যদের মতে, জোটের জটিলতায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না বলেই তারা শাসক শিবিরের হাত ধরেছেন।
ভোটের আগে মনস্তাত্ত্বিক জয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মালদহের মতো জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েত পুনর্দখল করা তৃণমূলের জন্য বড় নৈতিক জয়। এটি জেলাজুড়ে ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে। পুরাতন মালদার এই জয়ের প্রভাব আগামী ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফলেও প্রতিফলিত হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এক ঝলকে
- পুরাতন মালদার মহিষবাথানী গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি-কংগ্রেসের হাত থেকে ছিনিয়ে নিল তৃণমূল।
- অনাস্থা ভোটে ১৭-৫ ব্যবধানে জয়ী হয়ে নতুন প্রধান নির্বাচিত হলেন তৃণমূলের রুম্পা রাজবংশী।
- ত্রিশঙ্কু পঞ্চায়েতে ২ নির্দল ও ৮ কংগ্রেস সদস্যের দলবদলের ফলেই এই রাজনৈতিক পরিবর্তন।
- বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় এই জয়কে মালদহে তৃণমূলের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।