ডেথ সার্টিফিকেট নেই তো কী? টাকার জন্য দিদির কঙ্কাল বগলে নিয়ে সোজা ব্যাঙ্কে হাজির ভাই!

ডেথ সার্টিফিকেট নেই তো কী? টাকার জন্য দিদির কঙ্কাল বগলে নিয়ে সোজা ব্যাঙ্কে হাজির ভাই!

ওড়িশার কেওনঝড় জেলায় এক অভাবনীয় ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে। মৃত বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে না পেরে শেষমেশ কবর খুঁড়ে তাঁর কঙ্কাল নিয়েই ব্যাঙ্কে হাজির হয়েছেন ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। সোমবার কেওনঝড়ের পাটনা ব্লকের মালিপাসি এলাকায় এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত জিতু মুন্ডা তাঁর প্রয়াত বোন কালারা মুন্ডার জমানো টাকা নিজের অধিকারে নিতেই এই চরম পথ বেছে নেন।

নথি বনাম কঙ্কাল

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, কালারা মুন্ডা প্রায় দু’মাস আগে মারা যান। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আনুমানিক ২০ হাজার টাকা জমা ছিল। ওই টাকার উত্তরাধিকার দাবি করে জিতু মুন্ডা যখন ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কে যান, তখন কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে বোনের মৃত্যুজনিত প্রমাণপত্র বা ডেথ সার্টিফিকেট দাবি করে। কিন্তু আইনি কোনো নথি না থাকায় এবং নিজের দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয়ে জিতু সোজা বোনের কবরে চলে যান। সেখান থেকে অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে তিনি ব্যাঙ্কের কাউন্টারে হাজির হয়ে দাবি করেন যে এটিই তাঁর বোনের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

বিপাকে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ

ব্যাঙ্কের মতো একটি জনাকীর্ণ স্থানে হঠাৎ কঙ্কাল নিয়ে একজনকে হাজির হতে দেখে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ এবং কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই কাণ্ডটি মূলত প্রশাসনিক জটিলতা এবং নিয়মমাফিক নথি জোগাড় করতে না পারার হতাশা থেকে ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জানিয়েছে এবং গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামান্য কিছু টাকার জন্য মৃতদেহ অবমাননার এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় আইনি ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • ওড়িশার কেওনঝড়ে মৃত বোনের জমানো টাকা তুলতে ব্যাঙ্কে কঙ্কাল নিয়ে হাজির হলেন জিতু মুন্ডা।
  • বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা তুলতে প্রয়োজনীয় ডেথ সার্টিফিকেট ছিল না ওই ব্যক্তির কাছে।
  • নথি না থাকায় উত্তরাধিকার প্রমাণ করতে না পেরে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল তুলে নিয়ে আসেন তিনি।
  • ঘটনায় ব্যাঙ্ক চত্বরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আইনি তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *