পরকীয়ার নেশায় মত্ত প্রেমিক, সম্পর্কের টানাপোড়েনে চরম পথ বেছে নিলেন কল্যাণীর সুপ্রিয়া!

পরকীয়ার নেশায় মত্ত প্রেমিক, সম্পর্কের টানাপোড়েনে চরম পথ বেছে নিলেন কল্যাণীর সুপ্রিয়া!

কল্যাণী পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের যোগেন্দ্রনাথ কলোনি এলাকায় এক ২০ বছর বয়সী তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘর থেকে সুপ্রিয়া সরকার নামে ওই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, এই ঘটনার নেপথ্যে প্রেমিকের একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার।

ঘটনার নেপথ্যে ত্রিভুজ প্রেম ও অশান্তি

মৃতার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কল্যাণী হাউজিং কলোনির বাসিন্দা সৌমজিৎ দাসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুপ্রিয়ার। সৌমজিৎ পরিবেশবিদ্যার ছাত্র। অভিযোগ উঠেছে, সুপ্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীনই সৌমজিৎ একাধিক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়েন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। পরিবারের দাবি, সৌমজিতের এই আচরণ সুপ্রিয়া মেনে নিতে পারছিলেন না, আবার সম্পর্ক থেকে বেরোতেও পারছিলেন না। বুধবার রাতেও এই বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তেজনা ও পুলিশের হস্তক্ষেপ

বৃহস্পতিবার সকালে ডাকাডাকির পরেও সুপ্রিয়ার সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন পরিজনরা। সেখানে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে দ্রুত জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত সৌমজিতের বাড়িতে চড়াও হয় এবং তাঁর বাবা-মাকে মারধর করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে একে সম্পর্কের টানাপোড়েনজনিত আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, এর পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সৌমজিতের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কল্যাণী থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *