নথিপত্র ফাঁসের আশঙ্কায় পরিকল্পিত খুন! শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নথিপত্র ফাঁসের আশঙ্কায় পরিকল্পিত খুন! শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজ্য রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ও গোয়েন্দাদের অনুমান, এটি কেবল সাধারণ কোনো অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং পেশাদার ‘টার্গেট কিলিং’। মধ্যমগ্রামের শুভম গার্ডেনিয়া আবাসনের সামনে যেভাবে চন্দ্রনাথকে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে, তার নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক ও আর্থিক ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

পেশাদার শার্প শুটার ও নিখুঁত নীল নকশা

তদন্তে জানা গেছে, চন্দ্রনাথকে হত্যার জন্য ভিন রাজ্যের পেশাদার শার্প শুটারদের নিয়োগ করা হয়েছিল। ঘটনার দিন চন্দ্রনাথের গাড়ি আবাসনের সামনে পৌঁছালে একটি চার চাকা গাড়ি আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে তার পথ আটকে দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে দুটি মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা জানালার কাচে বন্দুক ঠেকিয়ে প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের কাছ থেকে একটি পরিত্যক্ত বাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, খুনের পর আততায়ীরা বিমানে করেই রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে এসটিএফ, সিআইডি এবং আইবি-র সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।

তথ্য ফাঁসের আতঙ্কই কি কাল হলো?

কেন চন্দ্রনাথ রথকে টার্গেট করা হলো, তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে তদন্ত। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথের কাছে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস জমানার বালি চুরি ও বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপনীয় নথিপত্র ছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেইসব তথ্য জনসমক্ষে চলে আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, এই নথিগুলো যাতে কোনোভাবেই ফাঁস না হয়, সেই কারণেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাঁর গতিবিধি অনুসরণ করে এই ছক কষা হয়েছিল।

দিল্লি ও রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতা

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরগরম জাতীয় রাজনীতিও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজ নিয়েছেন। মৃত কর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে শুভেন্দু অধিকারী এটিকে ‘ঠাণ্ডা মাথার খুন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই খুনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড কারা এবং বালি চুরির কোন তথ্য ধামাচাপা দিতে এই রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নেওয়া হলো, তা উদ্ঘাটন করাই এখন সিটের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *