নিরাপদ নয় রাজধানী, ধর্ষণ ও শিশু অপহরণে দেশের সব মেট্রো শহরকে ছাপিয়ে শীর্ষে দিল্লি!

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান প্রকাশ পেতেই দিল্লির আইনশৃঙ্খলার কঙ্কালসার চেহারাটি প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৪ সালের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, সামগ্রিক অপরাধের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫.১ শতাংশ কমলেও, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের হার রাজধানী শহরকে এক অন্ধকার পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও শিশু অপহরণের মতো ঘটনায় দিল্লি দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলির তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বড়সড় ধস
NCRB-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দিল্লিতে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা হয়েছে ৭,৮২৭টি, যেখানে নির্যাতিতার সংখ্যা ৭,৯০৪। ধর্ষণের পরিসংখ্যানেও দেখা গিয়েছে ভয়াবহ চিত্র। রাজধানীতে ১,০৫৮টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা জয়পুরের (৪৯৭) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া শিশু অপহরণের ক্ষেত্রে দিল্লি এক ভয়াবহ রেকর্ড গড়েছে। বছরে ৫,৪০৪টি শিশু অপহরণের ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এই শহর, যা মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও অনেকটা বেশি। পকসো (POCSO) আইনের অধীনে হওয়া যৌন নির্যাতনের মামলার ক্ষেত্রেও দিল্লি অন্যান্য মেট্রো শহরের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
অপরাধের কারণ ও ক্রমবর্দ্ধমান ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনঘনত্ব, ভাসমান জনসংখ্যা এবং নজরদারির অভাব রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। সম্পত্তির লোভ ও সামাজিক অস্থিরতা থেকেই সিঁধেল চুরি ও গাড়ি চুরির মতো ঘটনা বাড়ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া, কিশোর অপরাধের উদ্বেগজনক হার শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। খুনের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ঘটনায় মামলার চেয়ে নিহতের সংখ্যা বেশি, যা অপরাধের চরম নৃশংসতাকেই ইঙ্গিত করে।
সামগ্রিকভাবে, নথিভুক্ত মামলা কমলেও অপরাধের গভীরতা ও ভয়াবহতা দিল্লির ট্র্যাফিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বড়সড় ফাঁকফোকর এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।