ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দিলেও অপ্রতিরোধ্য তৃণমূল, ধূলিসাৎ এসআইআর মিথ

ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দিলেও অপ্রতিরোধ্য তৃণমূল, ধূলিসাৎ এসআইআর মিথ

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা ‘স্পেশাল ইনফরমেশন রিকোয়েস্ট’ (এসআইআর) কি নির্বাচনী ফলাফলে শাসক দলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে? ভোটকুশলীদের এমন জল্পনাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে এক অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে যে ২০টি বিধানসভা কেন্দ্রে এসআইআর-এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে, তার মধ্যে ১৩টিতেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছে ঘাসফুল শিবির। ফলে তালিকায় নাম বাদ পড়া মানেই শাসক বিরোধী হাওয়া— এই প্রচলিত ধারণা বা ‘মিথ’ পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে।

তালিকায় নাম বাদ পড়ার নিরিখে শীর্ষে থাকা সামশেরগঞ্জে ৭৪ হাজার ৭৭৫ জন ভোটারের নাম বাতিল হয়েছিল। বিরোধীরা এই ইস্যুকে হাতিয়ার করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছে তৃণমূল। একই চিত্র দেখা গিয়েছে লালগোলা, ভগবানগোলা, রঘুনাথগঞ্জ এবং মেটিয়াবুরুজের মতো কেন্দ্রগুলোতে। এই আসনগুলোতেও ৪০ থেকে ৫৫ হাজারের বেশি নাম বাতিল হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের জয়রথ থামানো যায়নি।

বিজেপির সাফল্য ও হারের ব্যবধানের সমীকরণ

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাতিলের প্রভাব যে কেবল শাসক দলের পক্ষে গিয়েছে এমন নয়। তথ্য বলছে, ১৮৭টি কেন্দ্রে যেখানে ৫ হাজারেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে, তার মধ্যে ১১৯টিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক মোচড় রয়েছে। এই ১৮৭টি আসনের মধ্যে অন্তত ৪৭টি কেন্দ্রে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা জয়ী প্রার্থীর প্রাপ্ত ব্যবধানের চেয়েও বেশি। বিশেষ করে বিজেপির জেতা ১১৯টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে নাম বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য বিতর্ক

২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল জিতেছিল এমন ২৬টি আসনে এবার বিজেপি জয়ী হয়েছে, যেখানে এসআইআর-এর প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম যদি তালিকায় থাকত, তবে অনেক আসনেই ফলাফল তাদের অনুকূলে আসত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে মৃত বা অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়ার এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি ভোটারদের মনস্তত্ত্বে এবং চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। অনেক আসনেই দেখা যাচ্ছে, অল্প ব্যবধানের হার-জিতের নেপথ্যে এই বাদ পড়া ভোটগুলোই মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত এসআইআর-এর এই প্রভাব আগামীর রাজনীতিতে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে তর্কের অবকাশ তৈরি করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *