এক রাতেই আকাশে ৩৭ কোটি পাখি! আমেরিকার জনসংখ্যাকেও হার মানাল এই অবিশ্বাস্য পরিযান

এক রাতেই আকাশে ৩৭ কোটি পাখি! আমেরিকার জনসংখ্যাকেও হার মানাল এই অবিশ্বাস্য পরিযান

প্রকৃতির এক অবিশ্বাস্য বিস্ময় প্রত্যক্ষ করল বিশ্ব। গত ৪ মে রাতে উত্তর গোলার্ধের আকাশে ডানা মেলেছিল প্রায় ৩৭.৩ কোটি পরিযায়ী পাখি। আমেরিকার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি সংখ্যক এই পাখির দল একযোগে উড্ডয়ন করে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। মূলত খাবার এবং প্রজননের অনুকূল পরিবেশের খোঁজে এই বিশাল পরিযায়ী স্রোত তৈরি হয়, যা আধুনিক বিজ্ঞান ও রাডার প্রযুক্তিতে ধরা পড়েছে।

কেন এই মহাযাত্রা এবং কীভাবে গণনা

পাখিবিজ্ঞানীদের মতে, পরিযায়ী পাখিরা মূলত খাদ্যের প্রাচুর্য এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উত্তর অভিমুখে যাত্রা করে। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের শুরুতে পতঙ্গ ও নতুন উদ্ভিদের আধিক্য থাকায় এই সময়টিকে তারা বেছে নেয়। কর্নেল ল্যাব-এর ‘বার্ডকাস্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে গত ২৩ বছরের আবহাওয়ার তথ্য এবং উন্নত রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পাখির সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে। তবে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর সংকট। ‘বার্ডলাইফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ পাখি প্রজাতি বিলুপ্তির পথে, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও খাদ্য শৃঙ্খলের জন্য বড় হুমকি।

শহুরে আলো ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ

পরিযায়ী পাখিদের এই দীর্ঘ যাত্রায় বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম আলো বা ‘লাইট পলিউশন’। রাতের আকাশ যখন শহরের অতিরিক্ত আলোকসজ্জায় ভরে ওঠে, তখন পাখিরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ক্লান্ত হয়ে যায় অথবা বহুতল ভবনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে প্রাণ হারায়। বিশেষ করে ‘অ্যালেন হামিংবার্ড’ বা ‘গোল্ডেন-উইংড ওয়ার্বলার’-এর মতো প্রজাতিগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের ভূমিকা ও সংরক্ষণ সচেতনতা

পরিযায়ী পাখিদের মানচিত্রে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করে আছে। প্রতি বছর প্রায় ৩৭০টিরও বেশি প্রজাতির পাখি শীতকালে ভারতে আশ্রয় নেয়। ওড়িশার চিল্কা হ্রদ, রাজস্থানের ভরতপুর এবং গুজরাটের কচ্ছের রণ—এই অঞ্চলগুলো সাইবেরিয়ান ক্রেন, ফ্লেমিঙ্গো এবং বার-হেডেড গুজের মতো পাখিদের কলতানে মুখর থাকে। ২০২৬ সালের বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবসের মূল ভাবনায় প্রতিটি পাখির গুরুত্ব এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে বাড়ির আশেপাশে পাখিদের জন্য জলের ব্যবস্থা রাখা এবং রাতে অপ্রয়োজনীয় আলো নিভিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে এই আকাশপথের যাত্রীরা নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *