নাবালিকা অপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ; কাঠগড়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা!

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের গোমতী নগর এলাকায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের চেষ্টার অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত ৫ মে রাতের এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুবকের। অপহৃত কিশোরীর পরিবারের দাবি, শুধু অপহরণই নয়, তাদের মেয়েকে শারীরিক হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও গুরুতর অভিযোগ
বিশাল খণ্ডের বাসিন্দা রাজকুমার বিশ্বকর্মার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ মে রাত ৮টা নাগাদ তার মেয়ে খুশি বাড়ির কাছের একটি দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে তাকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় তিনি উজারিয়াঁ এলাকার বাসিন্দা শাহরুখ ওয়ারদাত, আম্মার রইসসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। পরিবারের দাবি, অপহরণের পর কিশোরীকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয় এবং সে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। ফোনের মাধ্যমে মেয়ের আর্তনাদ শুনতে পেলেও মুহূর্তেই ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার বাবা। এছাড়া অভিযুক্তরা ২০ লক্ষ টাকা দাবি করে পরিবারটিকে নির্দিষ্ট স্থানে ডাকছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও প্রভাব
এই ঘটনায় স্থানীয় গোমতী নগর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের অভিযোগ, পুলিশ মূল এজাহারে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে এবং এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশের এই ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করে পরিবারটি জানিয়েছে, অবিলম্বে মেয়েকে উদ্ধার এবং দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে তারা বড় ধরনের আন্দোলনে নামবে। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনাটি লখনউয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রদায়িক স্পর্শকাতরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।