আয়করদাতাদের জন্য বড় খবর! ITR ফর্মে একাধিক বদল আনল দফতর, ফাইল করার আগে জানুন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আয়কর বিভাগ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য আইটিআর (ITR) ফর্ম ১ থেকে ৪ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও আপডেট নিয়ে এসেছে। এবারের সংশোধিত প্রক্রিয়ায় করদাতাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া যেমন সহজ করা হয়েছে, তেমনি উচ্চ মূল্যের লেনদেন ও নির্দিষ্ট আয়ের ক্ষেত্রে তথ্যের স্বচ্ছতার ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। যদিও আয়কর পোর্টাল এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত হয়নি, তবে নতুন এই নিয়মগুলো আগেভাগেই জেনে রাখা জরুরি।
বিনিয়োগ ও আয়ের তথ্যে বিশেষ সতর্কতা
এবারের রিটার্ন ফর্মে দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভ (LTCG), শেয়ার বাইব্যাক থেকে হওয়া ক্ষতি এবং ফিউচার ও অপশনস (F&O) ট্রেডিংয়ের তথ্যে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে যারা ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিং বা ফরেন অ্যাসেট হোল্ড করেন, তাদের আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে। আয়কর বিভাগ মূলত উচ্চ মূল্যের লেনদেন শনাক্ত করতেই ফর্মগুলোকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে সাজিয়েছে।
আইটিআর ফর্মে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনসমূহ
নতুন আপডেট অনুযায়ী, ITR-1 আগের মতোই ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করা চাকুরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য বহাল থাকছে। তবে ITR-2 ফর্মে মূলধনী লাভ এবং বাইব্যাক লস সংক্রান্ত কলামে বাড়তি তথ্যের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, ITR-3 ফর্মটি পেশাদার ও ব্যবসায়ীদের জন্য আরও বিস্তারিত করা হয়েছে, যেখানে বৈদেশিক মুদ্রা বা কমোডিটি ট্রেডিংয়ের জন্য পৃথক সেকশন যুক্ত করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় স্বস্তি এসেছে ITR-4 ফর্ম ব্যবহারকারী ছোট ব্যবসায়ী ও পেশাদারদের জন্য। এখন থেকে দুটি বাড়ি থেকে হওয়া আয়ও এই ফর্মের মাধ্যমে রিপোর্ট করা যাবে। এছাড়া ধারা ১১২এ-এর অধীনে ১.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভ রিপোর্টের সুবিধাও থাকছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে ব্যাংক ব্যালেন্স এবং অতিরিক্ত ঠিকানার তথ্য দেওয়া এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রক্রিয়ার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
আয়কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে কর ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। ব্যাংক ব্যালেন্স ও উচ্চ মূল্যের লেনদেনের তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে কর বিভাগ করদাতাদের আর্থিক প্রোফাইল আরও নিবিড়ভাবে যাচাই করতে পারবে। সামগ্রিকভাবে পুরো ব্যবস্থাটি ডিজিটাল ও তথ্যনির্ভর করার ফলে সাধারণ করদাতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে এটি জটিলতা কমাবে।