“আমরা কাউকে ধাক্কা দিয়েছি, ইঞ্জিনে আগুন!” ডেনভার বিমানবন্দরে রানওয়েতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা

নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে গেল এক লোমহর্ষক দুর্ঘটনা। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে রানওয়েতে ঢুকে পড়া এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি যাত্রীবাহী বিমানের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন। ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের ৪৩৪৫ নম্বর ফ্লাইটের সঙ্গে এই সংঘর্ষের পর বিমানটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। সম্প্রতি এই ঘটনার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) অডিও প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নিরাপত্তা ভেঙে রানওয়েতে প্রবেশ
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৯ মিনিটে এই ঘটনাটি ঘটে। ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের সুরক্ষা প্রাচীর টপকে আচমকাই সক্রিয় রানওয়েতে চলে আসেন। সেই সময় ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের বিমানটি উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং প্রায় ১৪৯ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে ছুটছিল। গতির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ওই ব্যক্তি বিমানের একটি ইঞ্জিনের ভেতরে ঢুকে যান এবং তার দেহের অংশবিশেষ রানওয়েতে ছড়িয়ে পড়ে।
পাইলটের সতর্কতা ও জরুরি অবস্থা
প্রকাশ্যে আসা এটিসি অডিওতে পাইলটের আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। তিনি কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান, “আমরা কাউকে ধাক্কা দিয়েছি এবং আমাদের ইঞ্জিনে আগুন ধরে গেছে।” যান্ত্রিক ত্রুটি ও আগুনের আশঙ্কায় পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে রানওয়েতে জরুরি ব্রেক কষেন এবং বিমানটি থামিয়ে দেন। পরবর্তীতে বিমানে থাকা যাত্রীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রানওয়ে পর্যবেক্ষণকারী এক কর্মী অডিওতে নিশ্চিত করেন যে, সেখানে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
🚨#BREAKING: Watch as a Frontier Airlines aircraft forced to make an emergency after a pedestrian on the runway was struck and sucked into one of the jet’s engines⁰⁰ 📌#Denver | #Colorado
— R A W S A L E R T S (@rawsalerts) May 9, 2026
Watch as horrifying footage from earlier this morning shows the moment Frontier Flight… pic.twitter.com/jvaWjzvMey
তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার ফলে ডেনভার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে একজন ব্যক্তি সুরক্ষিত বেষ্টনী পার হয়ে রানওয়ে পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনার কারণে রানওয়ে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে একে নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিমানবন্দরগুলোর সুরক্ষা প্রটোকল আরও কঠোর করতে বাধ্য করতে পারে।