ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের দাপট: ডলার বর্জন নিয়ে চীন-রাশিয়ার চাপে নতি স্বীকার করবে না নয়াদিল্লি?

আগামী ১৪-১৫ মে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। এই সম্মেলনে চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলার বর্জনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রবল চাপ থাকলেও, ভারত এই বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সূত্রের খবর, সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের বিষয়ে কোনো জোরালো বা নির্দিষ্ট মন্তব্য রাখার ক্ষেত্রে ভারতের পক্ষ থেকে অনীহা দেখা দিচ্ছে।
আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য
ভারতের এই সতর্ক অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার সঙ্গে তার বিশাল বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া দেশটিতে প্রায় ৫০ লাখ ভারতীয় বসবাস করেন এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই মুহূর্তে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চলমান থাকায় ভারত এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যা ওয়াশিংটনের কাছে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভারত স্পষ্ট করতে চায় যে, ব্রিকস মঞ্চকে যেন কোনোভাবেই মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা হয়।
রুশ-চীন চাপ ও ভারতের অবস্থান
রাশিয়া ও চীন ক্রমাগত ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে আসছে। যদিও আগের বিভিন্ন শীর্ষ সম্মেলনে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের নিয়ে কমিটিও গঠন করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে বড় কোনো সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার পুরোপুরি পরিত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই এবং ব্রিকসকেও তারা একটি ‘ডলার বিরোধী’ গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী নয়।
দ্বিপাক্ষিক বনাম বহুপাক্ষিক নীতি
ভারত অবশ্য দ্বিপাক্ষিক স্তরে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার সাথে ভারতের বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ এখন রুপি ও রুবলে সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও ভারতের একই ধরনের চুক্তি রয়েছে। তবে বহুপাক্ষিক বা ব্রিকস প্ল্যাটফর্মে সম্মিলিতভাবে ডলারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর বিষয়টি ভারত এড়িয়ে যেতে চায়। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো শীর্ষ মার্কিন নেতাদের ‘ব্রিকস ট্যাক্স’ আরোপের হুমকির প্রেক্ষাপটে ভারত তার অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এই কৌশলগত নমনীয়তা প্রদর্শন করছে। এই বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার নিয়ে সাধারণ আলোচনা থাকলেও কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।