“কতদিন টিকবেন এই মুখ্যমন্ত্রী?” মোদীর এক প্রশ্নেই তোলপাড় কংগ্রেস শাসিত রাজ্য!

“কতদিন টিকবেন এই মুখ্যমন্ত্রী?” মোদীর এক প্রশ্নেই তোলপাড় কংগ্রেস শাসিত রাজ্য!

কর্ণাটকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলোতে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি কর্ণাটকে বিজেপির এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলোতে সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই জনবিরোধী ঢেউ শুরু হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর মতে, কংগ্রেসের কাছে সুশাসনের কোনো দিশা নেই, তারা কেবল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং অভ্যন্তরীণ কলহ মেটাতেই ব্যস্ত থাকে।

ক্ষমতার লড়াই ও প্রশাসনিক স্থবিরতা

প্রধানমন্ত্রী মোদী কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের মধ্যকার কথিত ঠান্ডা লড়াইয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এই মুখ্যমন্ত্রী কতদিন গদিতে থাকবেন, তা নিয়েই সংশয় রয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের সমস্যা সমাধানের বদলে এই সরকার নিজেদের ঝগড়া মেটাতেই অধিকাংশ সময় ব্যয় করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার পাল্টা জবাবে জানিয়েছেন, কর্ণাটকে সরকারের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না এবং সমস্ত আসনই স্থিতিশীল।

অর্থনৈতিক সংকট ও জাতীয় প্রভাব

প্রধানমন্ত্রী কেবল কর্ণাটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে হিমাচল প্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং কেরলের পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, হিমাচল প্রদেশে কংগ্রেস সরকার কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না এবং তেলেঙ্গানায় কৃষকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। ছত্তিশগড় ও রাজস্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কংগ্রেস নিজেদের দলের নেতাদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই আক্রমণ মূলত কংগ্রেসের ‘গ্যারান্টি’ ভিত্তিক রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং আসন্ন নির্বাচনগুলোর আগে তাদের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে বড় করে তুলে ধরার একটি কৌশল। এর ফলে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বনাম কংগ্রেসের এই সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *