বিদেশি ভ্রমণ ও সোনা কেনা এড়িয়ে চলুন, দেশবাসীর কাছে বড় আর্জি প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের সাধারণ নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে এবং বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে তিনি দেশবাসীকে ‘আর্থিক দেশপ্রেম’ প্রদর্শনের অনুরোধ করেছেন। তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই সংকটকালে কিছু কঠোর সংকল্প গ্রহণের ওপর জোর দেন।
বিলাসবহুল ব্যয় ও সোনা কেনায় লাগাম
প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় এখন সময়ের দাবি। এই উদ্দেশ্যে অন্তত এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রেখে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া মোদী উল্লেখ করেন যে, ভারত বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ব্যয় করে সোনা আমদানি করে। দেশের স্বার্থে অন্তত এক বছর বিয়ের অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো উৎসবে সোনার গয়না না কেনার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর মতে, অতীতে যুদ্ধের সময় মানুষ সোনা দান করত, আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনা না কেনাই হবে বড় দেশসেবা।
জ্বালানি সাশ্রয় ও বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর
জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের পরিমিত ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর প্রধান প্রস্তাবগুলো হলো:
- ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো বা সরকারি গণপরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধি।
- অনিবার্য ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ‘কার-পুলিং’ ব্যবস্থা গ্রহণ।
- পণ্য পরিবহনে সড়কের পরিবর্তে রেলওয়েকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
- পরিবেশ রক্ষায় এবং খরচ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) ব্যবহার বাড়ানো।
কর্মসংস্থান ও দেশপ্রেমের নতুন সংজ্ঞা
প্রধানমন্ত্রী আবারও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এবং অনলাইন মিটিং কালচার ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন, যাতে যাতায়াত খরচ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশপ্রেম মানে কেবল সীমান্তে জীবন বিসর্জন নয়; বরং কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল জীবনযাপন করা এবং জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করাও প্রকৃত দেশপ্রেম। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলে ওঠা এবং ভারতীয় মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখা। নাগরিকদের এই সম্মিলিত অংশগ্রহণ দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা প্রদান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।