পুলিশের সামনেই পুড়ল ১০ দোকান! ‘ডবল ইঞ্জিন মানেই দুর্ভোগ’, খেজুরিকাণ্ডে সরব অভিষেক

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই রবিবার রাতে জনকা অঞ্চলের পশ্চিম ভাঙানমারী গ্রামে অন্তত ১০টি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবগঠিত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একে ‘ডবল ইঞ্জিন দুর্ভোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জনজীবনে অস্থিরতা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, পুলিশের সামনেই দুষ্কৃতীরা এই তণ্ডব চালিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের রুটিরুজি আজ ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ঘৃণা এবং ভয় দেখানোকেই প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেতৃত্বের করা আশঙ্কা যে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে, খেজুরির এই ঘটনা তারই প্রতিফলন। নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির মানুষের উপর পরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা
ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক জানতে চেয়েছেন, যখন সাধারণ মানুষের জানমাল বিপন্ন, তখন এই বাহিনী কোথায়? তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নীরবতা নিয়েও কটাক্ষ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার শুরুতেই এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দিনের আলোয় বা পুলিশের উপস্থিতিতে দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা বজায় থাকলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এই ঘটনা কেবল রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রার ওপর এক দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।