বিমানের দিন শেষ? রেলের ভোলবদলে এবার বেঙ্গালুরু-চেন্নাই মাত্র ৭৮ মিনিটে, পুণে-মুম্বই ২৮ মিনিটে!

ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সোমবার জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য বরাদ্দ বাজেটের ৯৮ শতাংশই গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ খরচ করে ফেলেছে ভারতীয় রেল। প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং লক্ষ্যমাত্রার আগের এই বিপুল ব্যয় রেলের ইতিহাসে এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্রুতগামী যাতায়াত ও আকাশপথের চ্যালেঞ্জ
রেলমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ট্রেনের গতি ও পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন আসছে। এমন কিছু নতুন রুট তৈরি করা হচ্ছে যেখানে ট্রেনের যাত্রাসময় বিমানে যাতায়াতের চেয়েও আকর্ষণীয় হবে। উদাহরণস্বরূপ, মুম্বই থেকে পুণে যাওয়ার সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ২৮ মিনিট। একইভাবে পুণে থেকে হায়দরাবাদ মাত্র ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে এবং হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু মাত্র ২ ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। রেলমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই সব রুটে মানুষ বিমান পরিষেবার বদলে রেলকেই প্রাধান্য দেবে, যা বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক মডেলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশাল কর্মযজ্ঞ ও পরিকাঠামোর বিস্তার
পরিকাঠামোগত সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, দেশে ইতিমধ্যে ৪৯,০০০ কিলোমিটার রেললাইনের বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পন্ন হয়েছে, যা জার্মানির পুরো রেল নেটওয়ার্কের চেয়েও বড়। এ ছাড়া নতুন করে ৩৬,০০০ কিলোমিটার ট্র্যাক যুক্ত করা হয়েছে, যা আয়তনে সুইজারল্যান্ডের রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ছয় গুণ।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সংযুক্তিকরণ
রেলের এই অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে বড় শহরগুলোর মধ্যে দূরত্ব কেবল নামমাত্র থাকবে। বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মধ্যে যাতায়াত সময় কমে ৭৮ মিনিটে নেমে আসবে, যার ফলে শহর দুটি কার্যত একটি সংযুক্ত মহানগরীতে পরিণত হবে। এ ছাড়া দিল্লি থেকে বারাণসী পৌঁছাতে সময় লাগবে ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট এবং লখনউ যাওয়া যাবে মাত্র ২ ঘণ্টায়। এই দ্রুতগামী যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতিতে গতি আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সময়সাশ্রয়ী করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।