“দেশের লক্ষ্মী বাঁচান!” মোদীর বার্তা মেনে দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার ডাক অশ্বিনী বৈষ্ণবের

বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারের অস্থির পরিস্থিতির মাঝে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা ‘ভাণ্ডার’ রক্ষায় দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। দিল্লিতে আয়োজিত সিআইআই (CII) অ্যানুয়াল বিজনেস সামিট ২০২৬-এ বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া থেকে এখনও অনেক দূরে। এই সংকটে দেশের প্রতিটি নাগরিক এবং শিল্পজগতকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সরাসরি ভূমিকা পালন করতে হবে।
জ্বালানি খরচ কমিয়ে সংকট মোকাবিলার কৌশল
ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার একটি বিশাল অংশ ব্যয় হয় অপরিশোধিত তেল আমদানিতে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানো বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। তিনি সাধারণ মানুষকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর পরামর্শ দেন। বিশেষ করে যেসব কেনাকাটা বা পরিষেবা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করে, সেগুলোতে কাটছাঁট করাই এখন সময়ের দাবি।
রপ্তানি বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ের দ্বিমুখী নীতি
শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী জানান, কেবল সাশ্রয় নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দিকেও সমান নজর দিতে হবে। ভারত যাতে প্রযুক্তি পরিষেবা এবং গ্লোবাল বিজনেসের মাধ্যমে ডলারের ইনপ্লো বাড়াতে পারে, তার জন্য শিল্পজগতকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অশ্বিনী বৈষ্ণবের মতে, একদিকে অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো এবং অন্যদিকে রপ্তানি বৃদ্ধির এই দ্বিমুখী কৌশলই দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় বিশ্ববাজারের সরবরাহ সংকট বা তেলের দাম বৃদ্ধি সরাসরি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা বজায় থাকলে টাকার মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সাধারণ মানুষ জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিলাসবহুল আমদানিকৃত পণ্যের ব্যবহার হ্রাস করেন, তবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে স্বস্তি ফিরবে, যা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করবে।