“মোদীজি ত্যাগের কথা বলছেন না, নিজের ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছেন”: রাহুল গান্ধীর কড়া তোপ

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ আবেদনের কড়া সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে শাসনের ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করে একে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
মোদী সরকারের সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ও আবেদন
তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা এবং জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে দেশবাসীকে একাধিক ত্যাগের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, করোনাকালের মতো পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা জরুরি। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়, অন্তত এক বছর বিয়ের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকা এবং ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানোর মতো বিষয়গুলোতেও তিনি জোর দেন। এমনকি কৃষকদের রাসায়নিক সারের ব্যবহার অর্ধেক করে প্রাকৃতিক চাষাবাদের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি একে ‘দেশভক্তি’র অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিরোধীদের তোপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী। তিনি মন্তব্য করেন, ১২ বছর দেশ শাসনের পর জনগণকে কী কিনতে হবে বা কোথায় যেতে হবে—তা বলে দেওয়া সরকারের অক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। রাহুলের মতে, সরকার নিজের দায়বদ্ধতা এড়াতে প্রতিবার জনগণের ওপর ত্যাগের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার প্রভাবে ভারতের আমদানিনির্ভর অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদন একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মিতব্যয়িতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা একে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধির সুযোগ নিচ্ছে। আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর এই আহ্বান দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করলেও, স্বল্পমেয়াদে তা অভ্যন্তরীণ বাজার ও সাধারণ মানুষের কেনাকাটার অভ্যাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।