“সোনা কিনবেন না!” মোদীর আহ্বানে তোলপাড় দেশ; পাল্টায় রাহুল বললেন, ১২ বছরের ব্যর্থতার প্রমাণ

“সোনা কিনবেন না!” মোদীর আহ্বানে তোলপাড় দেশ; পাল্টায় রাহুল বললেন, ১২ বছরের ব্যর্থতার প্রমাণ

ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত হওয়া জ্বালানি সংকটের আবহে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ আবেদনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। সম্প্রতি জ্বালানি সাশ্রয় এবং সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শের তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিষয়টিকে সরকারের দীর্ঘ ১২ বছরের ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করে আক্রমণ শাণিত করেছে কংগ্রেস।

সরকারের আর্জি ও বিরোধীদের তোপ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল দেশবাসীর উদ্দেশে জ্বালানি তেল ও সোনা কেনা সীমিত করার পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ কমানো, মেট্রো ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার আবেদন জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে সাধারণ মানুষের ওপর ত্যাগের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন। রাহুলের দাবি, ১২ বছরে দেশ এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে সরকারকে বলে দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ কী কিনবে আর কী কিনবে না।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ও আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর চাপ কমাতে চাইছে। বিশেষ করে সোনা আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তবে বিরোধীদের মতে, এটি সরকারের ভুল অর্থনৈতিক নীতির প্রতিফলন। রাহুল গান্ধী মোদী সরকারকে ‘আপসকামী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন যে, দেশের বর্তমান সংকট সামাল দেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। এই বিতর্ক আগামী দিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *