নৈহাটির বড়মার মন্দিরেও ‘পরিবর্তন’, সেলিব্রিটি তকমা ঝেড়ে এবার গুরুত্ব পাবেন সাধারণ ভক্তরাই!

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর এবার রদবদলের ছোঁয়া উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মার মন্দিরে। দীর্ঘদিনের পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুনভাবে মন্দির পরিচালনার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। আগামী ১৪ মে নৈহাটি বড় কালীপূজা সমিতি ট্রাস্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে নতুন কমিটির সদস্যদের নামে সিলমোহর পড়তে পারে। মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা এবং সাধারণ ভক্তদের ভোগান্তি কমানোকেই এখন মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেলিব্রিটিদের বিশেষ সুবিধা নয়
গত কয়েক বছরে বড়মার মন্দিরে ভিআইপি বা সেলিব্রিটিদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে সাধারণ ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও প্রভাবশালীরা দ্রুত দর্শন পেতেন বলে অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। তবে এবার সেই প্রথা রদ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন নৈহাটির নতুন বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মন্দির পরিচালনায় সবাই সমান সুযোগ পাবেন এবং সেলিব্রিটি হওয়ার কারণে কেউ আলাদা কোনো অগ্রাধিকার পাবেন না। বিধায়কের এই মন্তব্যে মন্দির চত্বরে দীর্ঘদিনের ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ বন্ধ হওয়ার জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে।
শৃঙ্খলায় জোর এবং নতুন পরিকল্পনা
শুধু কমিটি গঠন নয়, ক্রমবর্ধমান ভিড় সামলাতে দর্শনার্থীদের জন্য নতুন পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। বিধায়কের প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে পুজো দেওয়া এবং মায়ের দর্শন—এই দুইয়ের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করার চিন্তাভাবনা চলছে। এতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ যেমন সহজ হবে, তেমনি দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা দ্রুত দর্শন সেরে ফিরতে পারবেন।
নৈহাটির মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রে থাকা এই মন্দিরে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্দির পরিচালনায় এই রদবদল একদিকে যেমন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণেও বড় ভূমিকা রাখবে। এখন ১৪ মে-র বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে ভক্তকুল।