আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে এবার রাজ্যপালের বার্তা, প্রধানমন্ত্রীর পথে হেঁটে বাংলায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর আহ্বান

দেশের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করতে ও জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেওয়া উদ্যোগের সঙ্গে এবার একাত্মতা প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি বাংলার মানুষকে ঘর থেকে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আর্জি মেনে বাংলার রাজ্যপাল নাগরিকদের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনের প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানি সাশ্রয় ও বিকল্প কর্মপদ্ধতি
রাজ্যপাল তাঁর বিবৃতিতে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় স্তরেই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যে সমস্ত ক্ষেত্রে সম্ভব, সেখানে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোমে উৎসাহ দিলে জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মূলত যাতায়াত কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, অনলাইন ক্লাস ও বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ব্যয় সংকোচন ও দেশীয় পণ্যে গুরুত্ব
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজ্যপাল কেবল কাজের ধরণ নয়, বরং জীবনযাত্রাতেও সংযমের বার্তা দিয়েছেন। ভোজ্য তেলের পরিমিত ব্যবহার, সোনা কেনার ক্ষেত্রে সংযত মনোভাব এবং দেশীয় পর্যটন ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’ নীতিকে সমর্থনের কথা বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, নাগরিকদের ছোট ছোট সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
প্রভাব ও নাগরিক দায়বদ্ধতা
এই উদ্যোগ সফল হলে আমদানিকৃত জ্বালানি ও স্বর্ণের ওপর দেশের নির্ভরতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যপালের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিল্পসংস্থাগুলো যদি ওয়ার্ক ফ্রম হোম সংস্কৃতি পুনরায় চালু করে, তবে যানজট ও দূষণ হ্রাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে। নাগরিকদের সম্মিলিত অঙ্গীকার ও সেবার মনোভাবই শেষ পর্যন্ত একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর রাষ্ট্র গড়ে তোলার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।