চিনির রপ্তানিতে বড় নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশের বাজার সামাল দেওয়ার পথে কেন্দ্র

দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে চিনি রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। কাঁচা, সাদা এবং পরিশোধিত— সব ধরনের চিনি রপ্তানির ওপর এই বিধিনিষেধ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বুধবার ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ খাদ্যনিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্র এই সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে।
সংকটের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও আবহাওয়া
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি এল নিনোর প্রভাবে আগামী মরসুমে অপর্যাপ্ত বর্ষার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। বৃষ্টিপাত কম হলে আখের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা সরাসরি চিনির বাজারে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সার আমদানিতে সমস্যা দেখা দিলে কৃষিক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জোড়া সংকটের কথা মাথায় রেখে সরকার আগেভাগেই দেশের মজুত সুরক্ষিত করতে চাইছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতা ও বিশেষ ছাড়
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে কৌশলগত কারণে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বজায় রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকায় নির্দিষ্ট কোটার আওতায় চিনি রপ্তানি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া যে সমস্ত চালানের লোডিং ১৩ মে-র আগে শুরু হয়েছে বা যেগুলি ইতিমধ্যেই কাস্টমসের কাছে জমা পড়েছে, সেগুলি এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। সরকারি স্তরের চুক্তি এবং বিশেষ স্কিমের আওতায় থাকা চালানের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে রক্ষা করাই এখন কেন্দ্রের প্রধান অগ্রাধিকার। চিনির আগে সোনা আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও একই ইঙ্গিত দেয়। রপ্তানি বন্ধের ফলে দেশের বাজারে চিনির পর্যাপ্ত জোগান বজায় থাকবে, যা উৎসবের মরসুমের আগে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা নেবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।